নজরুলবর্ষ উপলক্ষ্যে

রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃত্য প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলবর্ষ উপলক্ষ্যে সৃজনশীল নৃত্য প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতাবাদী দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মিলনায়তনে নৃত্যকলা বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টায় নৃত্য প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় পুরস্কার বিতরণী ও বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রবিন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লোকসংস্কৃতি সংসদের সভাপতি, গবেষক ও নৃত্যপরিচালক মিনা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী টিটো মুন্সি এবং বিশিষ্ট নাট্যকার মাসুম রেজা।

নৃত্য প্রতিযোগিতায় বিচারকমণ্ডলীর দায়িত্বে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট নৃত্যব্যক্তিত্ব ড. সোমা মুমতাজ, রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সাইদুর রহমান লিপন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আরিফুর রহমান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ট্রেজারার এ. কে. এম. দেলোয়ার হোসেন, এফসিএমএ, রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম রিন্টু, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান শিকদার মো. আনোয়ার ইসলাম, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক এ. কে. এম. মশিউর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রবিন খান বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ। তাঁর সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ। আয়োজন সম্পর্কে বিভাগের রিসোর্স পারসন সাজু আহমেদ বলেন, নজরুলের সৃষ্টিকর্মের নান্দনিকতা, মানবতাবাদী চেতনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নৃত্যের মাধ্যমে উপস্থাপনের উদ্দেশে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় কবির শিল্পভাবনার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয়কে আরও নিবিড় করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এর আগে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত, জীবনদর্শন ও বহুমাত্রিক সৃজনকর্মকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আরও নিবিড় পাঠ ও চর্চার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে আগস্ট মাসে তাঁর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান-কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ‘নজরুল কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত