রণেশ দাশগুপ্তের জীবন ছিল সংগ্রাম ও বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

গান, আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে সাহিত্যিক, সাংবাদিক, মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রণেশ দাশগুপ্তের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে কমরেড মণি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টে এ শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রণেশ দাশগুপ্তের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের নেতারা। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানটি পরিবেশন করেন। পরে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি শিবানী ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে আলোচনা পর্ব শুরু হয়।

এ পর্বে রণেশ দাশগুপ্তের জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম, সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, প্রবীর সরদার ও শিবানী ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এবং সহসাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম। এ ছাড়া উদীচী কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শিখা সেনগুপ্তা ‘রানার’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, রণেশ দাশগুপ্তের জীবন ছিল সংগ্রাম ও বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি। দেশভাগের আগে ও পরে প্রগতিশীল রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে তাকে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতিতে সম্পৃক্ততাই তার কারাবরণের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। নিজের আদর্শের জন্য ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার জীবন আজও মানুষকে ভাবায় ও অনুপ্রাণিত করে।

উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, ‘একজন তুখোড় সাংবাদিক, বিজ্ঞ সাহিত্যিক ও অসামান্য প্রাবন্ধিক হিসেবে রণেশ দাশগুপ্ত তার জীবদ্দশায় আশপাশের মানুষকে শিখিয়ে গেছেন, কীভাবে সততা ও আদর্শে অটল থেকে সমাজ পরিবর্তনের স্বার্থে ইতিবাচক কাজ করা যায়। আজীবন অসাম্প্রদায়িক, মৌলবাদমুক্ত ও সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন তিনি।’

সঙ্গীতা ইমাম বলেন, ‘রণেশ দাশগুপ্তের জীবন ও আদর্শ থেকে একজন উদীচী কর্মীর করণীয় সম্পর্কে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার লেখা পড়ার পাশাপাশি উদীচীর ঘোষণাপত্র পাঠ এবং সেই আদর্শ নিজেদের জীবনচর্চায় ধারণ করা জরুরি। আদর্শ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যপদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানুষের চিন্তা, মনন ও চর্চার বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রণেশ দাশগুপ্ত কারাগারে থেকেও লেখালেখি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তার জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত