রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় ক্রীড়া সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত। ভারত সফরে যায় না পাকিস্তান, আবার পাকিস্তানেও খেলতে যায় না ভারত। দুই দেশের ক্রিকেটের মতো হকিতেও তাই দেখা যায় নিরপেক্ষ ভেন্যুর ওপর নির্ভরতা। কদিন আগে এশিয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তান ভারতে আসেনি বলে বাংলাদেশ খেলে এলো টুর্নামেন্টটি। এবার ফুটবল নিরপেক্ষ ভেন্যুতে মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ। আজ ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচেই একের অন্যের বিপক্ষে লড়বে দুই দল।
ক্রিকেটের মতো দুই দলের ফুটবলের লড়াইয়েও অনেক জয় রয়েছে ভারতের। ১৯৫৩ সালের পর থেকে দুই দল ২৫ বার মুখোমুখি হয় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে। যার মধ্যে ১৬ বার ভারত জেতে এবং পাকিস্তান জয় পায় দুটিতে। বাকি সাতটি ম্যাচ ছিল ড্র। এর মধ্যে ৯ বার দুই দল মুখোমুখি লড়াই করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। যার মধ্যে সাতবার জিতেছে ভারত, পাকিস্তান একবার ২০০৩ সালে। ড্র হয়েছিল প্রথম দেখায় ১৯৯৩ সালে সাফে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি (১-১)। ধারে ভারে কোনোভাবেই ভারতের সমতুল্য নয় পাকিস্তান। তারপরও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটিকে সমীহ করছে চ্যাম্পিয়ন ভারত। যদিও ভারতীয় সুপার লিগ চলায় এবং নিউজিল্যান্ড সফরে আলাদা দল পাঠানোর কারণে তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে দ্বিতীয় সারির একটি নিয়ে ঢাকায় এসেছেন কোচ নওশাদ মুসাকে। তারপরও দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও শিরোপা ধরে রাখার চাপ নিয়ে ভাবছেন না ভারত কোচ। ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে নওশাদ মুসা বলেন, প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাইনি আমরা। ভারতীয় সুপার লিগ চলায় পূর্ণাঙ্গ দলও পাইনি। তবে যে দল নিয়ে এসেছি, সেটি তরুণ, প্রতিভাবান ও শক্তিশালী।’
পাকিস্তানকে নিয়েও সতর্ক ভারত কোচ। অতীতের ফল দিয়ে এবারের ম্যাচ বিচার করতে চান না তিনি। নওশাদ মুসার মতে, আগের পাকিস্তান দলের সঙ্গে বর্তমান দলের পার্থক্য রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা অনেক ফুটবলার আছে তাদের দলে। তাই এবারের পাকিস্তান শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচের জন্য প্রস্তুত ভারত। ভারত অধিনায়ক নাতানও ম্যাচ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, দলটি সংখ্যায় ছোট হলেও প্রস্তুত। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বাড়তি উত্তেজনা চাপ হিসেবে দেখছেন না তিনি; বরং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রেরণা হিসেবে নিচ্ছেন। মাঠে সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো ফল পাওয়ার আশা তার।
ম্যাচের আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের করমর্দন ও জার্সি বিনিময় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। উত্তরে ভারত অধিনায়ক জানান, পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন বা জার্সি বিনিময়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কোচ নওশাদ মুসাও বলেন, প্রয়োজন হলে তারা প্রতিপক্ষকে আলিঙ্গন করতেও আগ্রহী।
২০০৩ সালে ঢাকায় সাফে ভারতকে হারানোর স্মৃতিও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে। ওই প্রসঙ্গে আলমগীর জানান, এবারের টুর্নামেন্টে তাদের লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলা এবং আগের সাফ টুর্নামেন্টের মতো ভালো পারফরম্যান্স করা। শুধু ভারতের বিপক্ষে নয়, প্রতিটি দলের বিপক্ষেই লড়াই করে টুর্নামেন্ট জয়ের চেষ্টা করবে পাকিস্তান।’ তবে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে সাফে নামতে পারছে না পাকিস্তান। অধিনায়ক জানিয়েছেন, প্রবাসী কয়েকজন খেলোয়াড় এখন দলের সঙ্গে নেই। পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠতে পারলে তারা যোগ দেবেন।