বগুড়ায় শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদায় দিল শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

শিক্ষকের বিদায় মানেই শুধু একটি কর্মজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্নেহ, শাসন, ভালোবাসা আর অসংখ্য স্মৃতির এক আবেগঘন অধ্যায়। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করল শিক্ষার্থীরা। ফুলেল শুভেচ্ছা, ভালোবাসা আর আবেগের মধ্য দিয়ে প্রিয় শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদায় জানাল তারা। এমন আয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সবার মাঝে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বগুড়া মহানগরীর বাদুরতলা আদর্শ স্কুলের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মান্নানের অবসর উপলক্ষে এ ব্যতিক্রমী বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

দীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানা এই শিক্ষকের বিদায়কে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা। 

প্রিয় শিক্ষকের সঙ্গে কাটানো দীর্ঘদিনের স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক শিক্ষার্থী। বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঘোড়ার গাড়িতে করে শিক্ষককে বিদায় জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন তাপসী রাবেয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম স্বর্ণকার, সহকারী প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক মোজাফফর হোসেন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন রনজু ও কোষাধ্যক্ষ জুয়েল শেখসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

আব্দুল মান্নান তার দীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনে শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রীড়া ও শিক্ষাক্ষেত্রে তার এই সম্পৃক্ততা তাকে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করে তুলেছে।

বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সুবাদে শিক্ষার্থীরা তার নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি আপন হয়ে উঠেছে। হয়তো পরদিন থেকে শ্রেণিকক্ষে তার আর কড়া শাসন থাকবে না, পড়া না পারলে বকুনি দেওয়ার সুযোগও থাকবে না। কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রতি তার বুকভরা ভালোবাসা ও দোয়া চিরকাল অটুট থাকবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, চরিত্র ও নৈতিকতাকে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ মনে করে বড় হতে হবে। লক্ষ্য স্থির রেখে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। নিজেদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে পিতামাতা ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে হবে।

একজন শিক্ষক হয়তো নির্দিষ্ট সময় পর কর্মজীবন থেকে অবসর নেন, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জীবনে তার শিক্ষা, আদর্শ ও ভালোবাসার প্রভাব থেকে যায় দীর্ঘদিন। বাদুরতলা আদর্শ স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঘোড়ার গাড়িতে করে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানানোর এই আয়োজন যেন সেই চিরন্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কেরই এক আবেগঘন বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত