সার পাচারের অভিযোগে গুরুদাসপুরে দুই ডিলারকে শোকজ

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে পাশের উপজেলায় ইউরিয়া সার পাচারের অভিযোগে দুই ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা কৃষি কার্যালয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকালে ডিলার গিয়াস উদ্দিন ও সিদ্দিকুর রহমান শাহকে এ নোটিশ দেওয়া হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিন কর্মদিবসের মধ্যে দুই ডিলারকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ডিলার গিয়াস উদ্দিন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের এক কৃষকের কাছে ১০ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করেন। অন্যদিকে সিদ্দিকুর রহমান শাহর প্রতিষ্ঠান থেকে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার এক ব্যবসায়ীর কাছে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।

পৃথক তিনটি অটোভ্যানে করে সারগুলো নেওয়ার সময় গুরুদাসপুর ও তাড়াশ উপজেলার সীমান্তবর্তী বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বিলবিয়াসপুর এলাকায় ভ্যানগুলো আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। পরে ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার ও তিনটি অটোভ্যান জব্দ করা হয়।

ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, সার আটকের সময় সংশ্লিষ্ট ডিলার বা ক্রেতা কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ভ্যানচালকদের বক্তব্য ও ডিলারদের ক্যাশ মেমো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম জানান, এর আগেও ডিলার গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে সার পাচার এবং সিদ্দিকুর রহমান শাহর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা পরিশোধের পাশাপাশি তারা মুচলেকাও দিয়েছিলেন।

এবার পাশের উপজেলায় সার সরবরাহের অভিযোগ ওঠায় তাদের কার্যক্রম আবারও নজরদারির আওতায় এসেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে দুই ডিলারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে চলনবিল অঞ্চলে সরিষা, বিনা চাষে রসুন, ভুট্টাসহ বিভিন্ন রবিশস্যের আবাদ শুরু হয়েছে। এমন সময়ে গুরুদাসপুরে সারের চাহিদা বেড়েছে। বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মৌসুমের শুরুতেই সারসংকট নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের প্রশ্ন, উপজেলার কৃষকেরা যখন প্রয়োজনমতো সার পাচ্ছেন না, তখন সেই সার পাশের উপজেলায় কীভাবে যাচ্ছে। প্রশাসন বলছে, সার নিয়ে কারসাজি ঠেকাতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত