ব্যাংক ধসের জেরে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট পেনা

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১২ এএম

ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান উয়েনোর পতনে লাখ লাখ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন ও লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।

প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান উয়েনোর পতনকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠানটির সংকটের কারণে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক তাদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে পারছিলেন না।

বৃহস্পতিবার ভিডিওবার্তায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে পেনা বলেন, ‘দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত পেনা বিরোধীদের অভিশংসন উদ্যোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন। তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্যে বিরোধী দল কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেছিল। একই সময়ে রাজপথে বিক্ষোভকারীরাও তাঁর পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছিলেন।

বৃহস্পতিবার নিজ দলের রক্ষণশীল অংশের কয়েকজন সদস্যের সমর্থনও হারান পেনা। তার পদত্যাগের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

উয়েনোর পতন ঘিরে পেনার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত, পেনশন তহবিলের অর্থের অপব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছিলেন আইনপ্রণেতারা। একসময় ছোট পরিসরে কার্যক্রম শুরু করা ফিনটেক প্রতিষ্ঠান উয়েনো দ্রুত সম্প্রসারিত হয়ে মাঝারি পর্যায়ের ব্যাংকে পরিণত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের সরকারি তহবিল পরিচালনা করত।

আলজাজিরার লাতিন আমেরিকা সম্পাদক লুসিয়া নিউম্যান বলেন, ‘অন্তত অবহেলা এবং ব্যাংকটি দেউলিয়া হওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কংগ্রেসে বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট—উভয়ের বিরুদ্ধেই অভিশংসনের উদ্যোগ নিয়ে অধিবেশন চলছে। আমি যখন কথা বলছি, তখন কংগ্রেসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ গ্রহণ না করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, তাকে বিচারের মুখোমুখি করে অভিশংসন করা হোক।’

প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক উয়েনোর আর্থিক অবস্থার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি ন্যূনতম সচ্ছলতা-সংক্রান্ত শর্ত লঙ্ঘন করেছিল। এরপরই সংকটের সূত্রপাত হয়।

প্রায় ৬৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ প্যারাগুয়েতে উয়েনোর গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। প্রতিষ্ঠানটির সংকটের ফলে এসব গ্রাহক তাদের ব্যাংক হিসাবের অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না।

পদত্যাগের ঘোষণায় পেনা বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা, গ্রাহকদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করা হবে, আমানত সুরক্ষা তহবিল তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে এবং সরকারি অর্থসহ সব প্যারাগুয়ানের সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।’

এদিকে, সংকট নিয়ে উয়েনো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত