সাজেকে অবরোধে বাতিল কঠিন চীবর দানোৎসব

সাজেকে সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সহায়তার বিষয়ে কী কী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য সুপারিশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০০ পিএম
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে চলমান অবরোধ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ও পবিত্র ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব বাতিল করা হয়েছে।
 
সাজেক বনানী বনবিহার কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি গভীরভাবে বিবেচনা করে অনিবার্য কারণবশত ৬ ও ৭ নভেম্বরের নির্ধারিত কঠিন চীবর দান উৎসবের সমস্ত কর্মসূচি স্থগিত ও বাতিল করা হয়েছে।
 
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সাজেকের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে এই দানোৎসব উদযাপিত হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এ বছর অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, যা অবশেষে বাতিলের ঘোষণায় রূপ নিয়েছে।
 
পাহাড়ি জনপদের এই জনবহুল ও নান্দনিক পর্যটন এলাকায় অবরোধের কারণে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বৌদ্ধ ভিক্ষু-শ্রমণ, স্থানীয় দায়ক-দায়িকা এবং দূরদূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থী ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের পক্ষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে উঠছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। পরে গত ১ নভেম্বর মাত্র একদিনের জন্য অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হলেও, গত ২ নভেম্বর থেকে ফের চতুর্থ দফায় অবরোধ শুরু হয়।
 
আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পর্যন্ত এই অবরোধ পঞ্চম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। চলমান এই কঠোর অবরোধের জেরে সাজেক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও সংঘাত এড়াতে সাজেকের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
 
 
বুধবার (৪ নভেম্বর) থেকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কৃষিপণ্যের পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানগুলোকে অবরোধের আওতামুক্ত ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক সতর্কতায় রয়েছে।
 
অন্যদিকে, সাজেকে সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সহায়তার বিষয়ে কী কী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য সুপারিশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
 
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সুপারিশমালা পেশ করা হয়, যেখানে পাহাড়ি জনপদের সামগ্রিক শান্তি ও জনজীবন স্বাভাবিক করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত