নাইজার থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার ফ্রান্সের, সামরিক সহযোগিতা বন্ধের ঘোষণা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:৫৬ এএম

অবশেষে নাইজার থেকে ফরাসি রাষ্ট্রদূত ও সেনা সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। এ ছাড়া দেশটিতে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান মাখোঁ। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বার্তাসংস্থা আল জাজিরা।

নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁ সেই অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেন। এর পর থেকেই দেশটিতে নতুন সামরিক শাসকরা ফরাসি রাষ্ট্রদূত ও সেনাদের প্রস্থানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

গেলো আগস্টের শেষের দিকে নাইজারে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল নাইজারের সামরিক জান্তা। তা সত্ত্বেও নাইজারে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতেই থাকবেন বলে সেসময় জানিয়ে দিয়েছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

অবশেষে রবিবার নাইজার থেকে রাষ্ট্রদূত ও সেনা প্রত্যাহারের কথা জানান তিনি। মাখোঁ বলেন, ‘ফ্রান্স (নাইজার থেকে) তার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমাদের রাষ্ট্রদূত এবং বেশ কয়েকজন কূটনীতিক ফ্রান্সে ফিরে আসবেন।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, নাইজারের সঙ্গে ফ্রান্সের সামরিক সহযোগিতা ‘সমাপ্ত’ হয়েছে এবং নাইজারে অবস্থিত ১৫০০ ফরাসি সৈন্যরা ‘আগামী মাসগুলোতে’ ফিরে আসবেন। এ ছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ও সেনাদের অবস্থানের বিরুদ্ধে কয়েক মাসের বিদ্বেষ এবং বিক্ষোভের পরে ফ্রান্সের সিদ্ধান্তটি সম্মুখে এলো।

এদিকে মাখোঁর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে নাইজারের সামরিক শাসকরা দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে দেয়া এক বিবৃতিতে জানায়, "এই রবিবার, আমরা নাইজারের সার্বভৌমত্বের একটি নতুন পদক্ষেপ উদযাপন করছি। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা নাইজেরিয়ান জনগণের ইচ্ছার কথা বলে।“

এদিকে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তিনি এখনও নাইজারের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে তার দেশের ‘একমাত্র বৈধ ক্ষমতাসীন নেতা’ হিসাবে বিবেচনা করছেন এবং তাকে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি ক্ষমতাচ্যুত এই প্রেসিডেন্টকে ‘জিম্মি’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত