নাজমুল হোসেন শান্তকে তিন ফরম্যাটের নেতৃত্ব দেওয়ার আগে লিটন দাসকে সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনা করেছিল বিসিবি। কিন্তু লিটন ওই সময় অধিনাকত্বে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না বলে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় পরিস্থিতি বদলেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে দারুণ নেতৃত্ব দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর এই ফরম্যাটে নেতৃত্ব দিতে রাজি লিটন দাস।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে এক অধিনায়ক বনাম আলাদা অধিনায়কের বিতর্ক চলছে অনেকদিন। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের মাঝে অভিমানে তো একবার নেতৃত্ব ছেড়েই দিতে চেয়েছিলেন শান্ত। কিন্তু বিসিবি তাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে রেখে দেয়। তখন ফের আলোচনা শুরু হয়েছিল যে, শান্তর ওপর চাপ কমাতে একটি ফরম্যাটের নেতৃত্ব অন্য কাউক দেওয়া যায় কিনা। এক্ষেত্রে লাল বলে এগিয়ে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এদিকে আজ শেষ টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮০ রানে হারানোর পর নেতৃত্ব নিয়ে মুখ খুলেছেন এই সিরিজের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লিটন। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিসিবি যদি দায়িত্ব দেয়, আমি রাজি আছি। এখানে দ্বিমত থাকার কোনও কথা না। আমি এটা উপভোগ করছি। এতদিন খেলার অভিজ্ঞতা থেকে আমি অনেক সিদ্ধান্ত নিই, বোলাররাও স্কিল দেখাচ্ছে, মাঠে আমার কাজ সহজ হয়ে যায়।’
আসলে এই সিরিজে লিটনের নেতৃত্ব ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। মাঠে ফিল্ডিং পরিবর্তন, বোলারদের সঠিক ব্যবহার, বোলারকে পরামর্শ দেওয়া এমনকী মাঠের বাইরে সতীর্থদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা- সব মিলিয়ে তিনি একশতে একশ পেয়েছেন। একটাই সমস্যা- তার ব্যক্তিগত পারফর্মেন্স। কিপিংয়ে দুর্দান্ত হলেও ব্যাট হাতে লিটনের সময় ভালো যাচ্ছে না। বিসিবি যখন তাকে বিশ্রাম দেওয়ার চিন্তা করছে, ঠিক তখনই আলোচনায় লিটনের নেতৃত্ব।
সমর্থক, কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সতীর্থ সবাই লিটনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। লিটন অবশ্য সব কৃতিত্ব দিলেন সতীর্থদের, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ হোম গ্রাউন্ডে খুব ভালো দল। আমাদের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ব্যালেন্সড ব্যাটিং। বলবো না খুব বিধ্বংসী ব্যাটিং অ্যাটাক। আমরাই যদি বোর্ডে প্রতিদিন কিছু রান দিতে পারি, আমাদের বোলারদের স্কিল বাড়ছে, প্রতি ম্যাচেই নিজে থেকে দায়িত্ব নিচ্ছে, ফিল্ড নিজে থেকে সাজাচ্ছে, অনেক কিছু শিখছে। এটা ভালো ইঙ্গিত। আমার কাজ সহজ হয়ে যায়।’