ব্যাটিংয়ে তো নিজেকে প্রমাণ করেছেনই, সেইসঙ্গে স্পোর্টসম্যানশিপ দেখিয়ে সবার মন জিতে নিয়েছেন জাকের আলী অনিক। ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যাতে আইন কানুনের পাশাপাশি ‘ক্রিকেটীয় চেতনা’ বলে একটা ব্যাপার থাকে। তাই অনেক ক্রিকেটারই ‘মানকাডিং’ বা ‘অবস্ট্রাকিং দ্য ফিল্ড’ আউটের মতো সুযোগগুলো নেন না। ওবেড ম্যাককয়ের সঙ্গে জাকের আলী যা করেছেন, সেটাও স্পোর্টসম্যানশিপের দারুণ উদাহরণ।
ঘটনা বাংলাদেশের ইনিংসের চতুর্দশ ওভারের। প্রথম বলটি কুইকার শর্ট লেন্থে করেছিলেন গুডাকেশ মোতি। বলটিতে জাকের স্লগ সুইপ খেললে মিড উইকেটের দিকে ক্যাচ ওঠে। সেই ক্যাচ নিতে গিয়ে ওবেড ম্যাককয় মারাত্মকভাবে মাঠে পড়ে যান। ক্যাচ ফসকে যায়। ম্যাককয় এতটাই আঘাত পেয়েছিলেন যে, বল কুড়িয়ে থ্রো করার শক্তিও ছিল না! ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলেন।
এই সুযোগে খুব সহজেই অন্তত তিনটি রান নিতে পারতেন জাকের আলী এবং শামীম পাটোয়ারী। কিন্তু দুই রান নেওয়ার পর জাকের খেয়াল করলেন যে, ম্যাককয় মাঠে পড়ে কাতরাচ্ছেন। তিনি সাথে সাথে শামীমকে ইশারায় রান না নেওয়ার নির্দেশনা দেন। ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা উইন্ডিজ কিংবদন্তি ইয়ান বিশপও এটিকে ‘গ্রেট স্পোর্টসম্যানশিপ’ হিসেবে আখ্যা দেন। পরের ওভারেই অবশ্য ভুল বোঝাবুঝিতে রান-আউট হয়ে যান শামীম (২)। তবে জাকের খেলেন ৪১ বলে ৭২ রানের অপরাজিত ইনিংস, জিতে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
জাকের আলীর স্বপ্নের সফর
ছেলেদের সবসময় বলি চাপ নয়, উপভোগ কর: লিটন দাস
একের ভেতর তিন, নাকি তিনে মিলে এক?