দেশে ক্যানসার আক্রান্তের হার প্রায় ২৩ শতাংশ। এর বড় অংশ হলো ফুসফুস ক্যানসার। দিন দিন এই আক্রান্তের হার বেড়েই চলছে। ফুসফুসের ক্যানসার সাধারণত তিন ধরনের হয়। নন-স্মল সেল টাইপ, স্মল সেল টাইপ এবং কার্সিনয়েড। এর মধ্যে স্মল সেল টাইপ সবচেয়ে খারাপ, এটি বৃদ্ধি পায় ও শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ঝুঁকির কারণ
ধূমপান ও বায়ুদূষণ ফুসফুসের ক্যানসারের প্রধান কারণ হলেও এর সঙ্গে পেশাগত কারণে ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক যেমন আর্সেনিক, নিকেল, সিলিকা ইত্যাদির সংস্পর্শে আসাও উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
লক্ষণ
প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসারের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দেয় না। রোগটি যখন শেষ পর্যায়ে যায় তখন উপসর্গ দেখা দেয়। তা হলো
ক্রমাগত কাশি
শ্বাসকষ্ট
রক্তসহ কফ ওঠা
বুকে ব্যথা
শরীরের ওজন কমে যাওয়া কণ্ঠস্বর বসে যাওয়া ইত্যাদি। এসব লক্ষণ থাকলে ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। যদি রোগের ইতিহাস ও উপসর্গ ফুসফুসের ক্যানসার নির্দেশ করে। তবে রোগীর বুকের এক্সরে ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে প্রাথমিক নিরীক্ষণ করা হয়।
নির্ণয় পদ্ধতি
ফুসফুসের ক্যানসার চূড়ান্তভাবে নির্ণয় করা হয় চঊঞ-ঈঞ ংপধহ এবং ঈঞ বা ব্রঙ্কাস্কোপি গাইডেড ট্রুকাট বায়োপসি দ্বারা।
চিকিৎসা
অস্ত্রোপচার মাধ্যমে সারিয়ে নিরাময় করা যায় এবং এটিই ফুসফুস ক্যানসারের অন্যতম সেরা চিকিৎসা। ফুসফুসের ক্যানসার সম্পর্কে একধরনের ভ্রান্তিমূলক প্রচার আছে তাহলো : ‘অসুস্থ ফুসফুসের অস্ত্রোপচার করলে সেই মানুষের পক্ষে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।’ কিন্তু বহু আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই ধারণা ভুল প্রমাণ হয়েছে।
যে পর্যায়ে সার্জারি করা হয় রোগের পর্যায়কে স্টেজ ওয়ান থেকে স্টেজ ফোর অবধি ভাগ করা হয়। এর মধ্যে নন-স্মল সেল টাইপ ও কার্সিনয়েড ক্যানসারের স্টেজ থ্রি পর্যন্ত সার্জারি দ্বারা নিরাময় সম্ভব হতে পারে। স্মল সেল টাইপ ক্যানসারে কেবল স্টেজ টু পর্যন্তই অস্ত্রোপচার দ্বারা নিরাময়ের সম্ভাবনা থাকে। দেখা যায় যে, যদি অস্ত্রোপচার-পূর্ববর্তী কিছু পরীক্ষায় রোগী উপযুক্ত বিবেচিত হন, তবে রোগসংক্রমণ বিচার করে ফুসফুসের অংশবিশেষ, এমনকি একদিকের সম্পূর্ণ ফুসফুসও বাদ দেওয়া সম্ভব। সেই রোগী অস্ত্রোপচারের পর আগের মতোই কায়িক শ্রম সহ্য করার অবস্থায় থাকেন। সুস্থতর জীবনযাপনও করতে পারেন। এ ধরনের রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসার অভিজ্ঞতা আছে, এমন থোরাসিক সার্জেন, পালমনোলজিস্ট, মেডিকেল ও রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট এবং রেডিওলজিস্ট এই ধরনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।