কাজার রাজবংশের পতনের আদ্যোপান্ত

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:৪২ এএম

পারস্যে আঠারো শতকের শেষ দিকে কাজার রাজবংশের উত্থান যেমন আকস্মিক, তেমনি তার পতনও। এই শাসকদের স্বৈরাচারী মনোভাব ও বিদেশিদের সঙ্গে অতিমাত্রার সখ্য শেষ পর্যন্ত এই বংশের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। লিখেছেন নাসরিন শওকত

কাজার বংশ ও সাম্রাজ্য

পারস্যের রাজতন্ত্রের ইতিহাস আড়াই হাজার বছরের পুরনো। ইতিহাসে কাজার বংশের উত্থান একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই রাজবংশ ১৭৮৫ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত পারস্য (বর্তমানের ইরান) শাসন করেছিল। কাজাররা ছিল ইরানীয় রাজপরিবার। যারা মূলত ওঘুজ তুর্কি বংশোদ্ভূত একটি যাযাবর উপজাতি। এই পরিবারের প্রথম শাসক ছিলেন কাজার গোত্রের নেতা মোহাম্মদ আগা খান। যিনি পারস্যে কাজার রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে ইরানকে আবার একতাবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন।

কাজাররা ছিল পারস্যের সাফাভিদ বংশের মিত্র কিজিল বংশের একটি গোত্র। ইরানে মুঘল শাসন চলাকালে কাজাররা ইরানে চলে আসেন। আর্মেনিয়া এলাকায় বসবাস করতে শুরু করেন । শাহ ইসমাইল সাফাভিদ ইরানে সাফাভি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। তখন যে যাযাবর গোত্রগুলো তাকে সহায়তা করেছিল, কাজাররা ছিলেন তাদের অন্যতম। পরে কাজাররা কিজিল বাকাদের গোত্রে যোগ দেন। পাহলভী রাজবংশ শাসন করার আগে ইরান শাসন করেছে যথাক্রমে সাফাভিদ রাজবংশ ও কাজার রাজবংশ। ইরানের রাজনীতিতে এই দুই রাজবংশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাফাভিদ বংশের প্রথম রাজা ইসমাইল ইরানের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে শিয়া ইসলামের নাম ঘোষণা করেন। পরে কাজার রাজবংশ ক্ষমতায় এসে আলেম সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদান করে। বংশ পরম্পরায় কাজার রাজবংশের সাতজন শাহ ইরানের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজত্ব করেন।

কাজার রাজবংশ দীর্ঘ প্রায় দেড়শ (১৪০) বছর পারস্য শাসন করেছিল। দীর্ঘ এ সময়ের মধ্যে তারা যেমন নতুন ভূখন্ড জয় করেছিল, তেমনি আবার অনেক ভূখন্ডের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছিল।১৯ শতকে এসে রাশিয়ার কাছে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারানো ভূখন্ডের মধ্যে ছিল ককেশাস ও মধ্য এশিয়ার বিশাল এলাকা। যে এলাকাজুড়ে রাশিয়ার সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে। কাজার রাজত্বের সে সময়েই গ্রেট ব্রিটেনের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সংঘাত চলছিল। নিজেদের বিশাল দুটি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারানো সত্ত্বেও কাজার রাজবংশ রাশিয়া ও ব্রিটেনের মধ্যকার উত্তেজনাকে নিজেদের সুবিধামতো কাজে লাগাতে সক্ষম হয়। যার মধ্য দিয়ে এই রাজবংশের শেষ দিকে এসে কাজার রাজত্বের ব্যাপক আধুনিকায়ন ঘটে। ফলে কাজার সাম্রাজ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার হয়। সেই সঙ্গে পাশ্চাত্যের সঙ্গে বাড়তে থাকে সুসম্পর্ক, যা কাজার ভূখন্ডের চিত্রকে চিরতরে পাল্টে দেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯২৫ সালে কাজার রাজবংশের পতন ঘটে, যা গুপ্তহত্যা, যুদ্ধ এবং সবশেষ একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়। কাজার রাজবংশের এই পতন মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে পুরোপুরি পাল্টে দেয়।

ইরানকে একত্র করা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চল শাসন করত জান্দ রাজবংশ। এই রাজবংশের শেষ শাসক ছিলেন মোহাম্মদ করিম খান জান্দ। ১৭৭৯ সালে করিম খান জান্দের মৃত্যু হয়। এরপর তুর্কমেন কাজার গোত্রের নেতা আগা খান মোহাম্মদ সামনের দিকে অগ্রসর হন। তার লক্ষ্য ছিল শত্রুদের উৎখাত করা ও ইরানকে আবার একত্র করা। ১৭৮৫ সালে আগা খান জান্দ রাজবংশকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে ময়ূর সিংহাসন দখল করেন। এর তিন বছর পর ১৭৮৯ সালে আগা খান ইরানের রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসেন। এর মধ্য দিয়েই ইরানে কাজার রাজবংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু আগা খান সিংহাসনে আরোহণ করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে শাহ বা সম্রাট হিসেবে মুকুট পরানো হয়নি তখনো।

আগা খানের শাসনামল নির্মম ছিল। ১৭৯৪ সালে প্রায় ক্ষমতাচ্যুত জান্দ বংশের সাবেক শাসক লুৎফ আলি খানকে কারমান শহরে আশ্রয় দেওয়া হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আগা খান কারমান শহর দখল করেন। এরপরই তার শত্রুকে শহরটিতে আশ্রয় দেওয়ার জন্য এর বাসিন্দাদের নির্মম শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। এই শাস্তির অংশ হিসেবে কারমান শহরের সব পুরুষের দুই চোখ ওপরে ফেলা হয়।

জানা যায়, সে সময় কারমান শহরের ২০ হাজার উপড়ে ফেলা চোখ আগা খানের সামনে এনে জড়ো করা হয়েছিল। এদিকে নারী ও শিশুদের দাস বানিয়ে কারমান শহরকে একেবারে ধ্বংস করে ফেলা হয়। ওই বছরই আগা খান তার সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলেন। সেই সঙ্গে ইরানের সাবেক অঞ্চল জর্জিয়া ও ককেশাসে নির্মম হাতে ইরানের সার্বভৌমত্বও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। এদিকে শহরের রাজধানী স্থাপন করেন তেহরানে। এর মধ্য দিয়েই পুরো ইরানের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয় কাজার রাজবংশ। দুই বছর পর ১৭৯৬ সালে মোহাম্মদ আগা খানকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারস্য সাম্রাজ্যের সম্রাট হিসেবে শাহ উপাধিতে মুকুট পরানো হয়। কিন্তু এরপরের বছরই ঘটে যায় সেই নির্মম ঘটনা। ১৭৯৭ সালে কাজার রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসক আগা খান নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন।

রাশিয়ার আগ্রাসন

মোহাম্মদ আগা খানের যখন মাত্র ছয় বছর বয়স, তখন তাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। তার কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। তাই আগা খানের মৃত্যুর পর সিংহাসনে ‘শাহেনশাহ’ (রাজাদের রাজা) হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন তার ভাগনে ফতেহ আলি শাহ। সিংহাসনে বসেই তিনি ইরানের সাম্রাজ্যকে বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেন এবং নতুন অঞ্চলকে সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। ফতেহ আলিকে কাজার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়ে থাকে। এ সময় ককেশাস অঞ্চলে রাশিয়ার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পরপর দুটি যুদ্ধ পরিচালনা করেন ফতেহ আলি। রুশ-পার্সিয়ান নামের প্রথম দফার ওই দুটি যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল যথাক্রমে ১৮০৪ ও ১৮১৩ সালে। তখন ঐতিহ্যগতভাবে ককেশাস অঞ্চলটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু যুদ্ধ দুটি কাজারদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। ১৮১৩ সালের যুদ্ধের ফলে রুশ বাহিনীর সঙ্গে কাজার বাহিনীর গুলিস্তান নামের এক চুক্তি সম্পাদিত হয়। যে চুক্তির শর্তানুযায়ী কাজার শাসকদের আজারবাইজান, দাগেস্তান ও জর্জিয়া রাশিয়ার রোমান জারের হাতে তুলে দিতে হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় দফায় রুশ-পার্সিয়ান আরও একটি যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৮২৬ ও ১৮২৮ সালের ওই দুই যুদ্ধও ভয়াবহ পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। যার পরিণতিতে দক্ষিণ ককেশাসের বাকি অংশও রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে হয় ইরানকে।

পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক

ফতেহ আলির শাসনামলের ঠিক ওই সময়েই ইরানের সঙ্গে পশ্চিমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের শুরু। যার ফলে ইরানের ভূখন্ড নিয়ে ইউরোপীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দেয়। এরই মধ্যে কেটে যায় পাঁচ বছর। ১৮৩৪ সালে ফতেহ আলির স্থলাভিষিক্ত হন তার নাতি মোহাম্মেদ শাহ। তিনি রুশ নিয়ন্ত্রণে থাকা হেরাত দখলের দুটি চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এর দেড় যুগ পর ১৮৪৮ সালে মোহাম্মেদ শাহের মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পর এবার কাজার সিংহাসনে বসেন শাহের ছেলে নাসের আল-দীন।

আধুনিকায়নের শুরু

কাজার শাহ নাসের আল-দীনের শাসনামল মূলত উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিক্ষা পদ্ধতি চালু করার জন্য সুপরিচিত হয়ে ওঠে। বিশাল এই উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন সম্ভবপর হয়েছিল নাসের দীনের অত্যন্ত দক্ষ উপদেষ্টা ও কনস্টেবল মির্জা তাঘী খান আমির কবিরের জন্য। ১৯ শতকের মধ্যবর্তী ওই সময় থেকেই ইরান আধুনিক যুগে প্রবেশ করে ও পরে যার ধারা অব্যাহত থাকে। কাজার রাজবংশের এই শাসনামলেই ইরানে টেলিগ্রাফ লাইন, একটি আধুনিক ডাক পরিষেবা, পশ্চিমা ধাঁচের স্কুল ও প্রথম সংবাদপত্র চালু হয়েছিল। নাসের দীন তার রাজত্বেই ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে মোটামুটি কঠোর হাতে শিয়া মুসলিম আলেমদের ক্ষমতা সীমিত করেন। বলা হয়, কাজার শাসকদের মধ্যে তিনিই প্রথম বিলাসিতায় গা ভাসান। ইউরোপে ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত ভ্রমণে যাওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের বিদেশি ঋণ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনিই প্রথমবারের মতো ইরানে রেলপথ ও সেচ খাল নির্মাণ এবং তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রির জন্য বিদেশি হিসেবে ব্রিটিশদের ছাড় দেন। তার এসব পদক্ষেপ ইরানজুড়ে এক নব জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত ফতোয়ার মাধ্যমে নতুন নিয়ম জারি হলে দেশব্যাপী তামাকজাত দ্রব্য বয়কট হয়, যা নাসের দীনকে তার নীতি থেকে পিছু হটতে বাধ্য করে।

যদিও নাসের দীন ইরানের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ব্রিটেন ও রাশিয়ার মধ্যকার পারস্পরিক অবিশ্বাসকে পুঁজি করতে চান, কিন্তু তার এই কূটকৌশলই বাস্তবে হীতে বিপরীত ফল বয়ে আনে তার জন্য। কারণ তার শাসনামলেই ইরানে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও আঞ্চলিক দখল উভয়ই বৃদ্ধি পায়। যার পরিণতিতে ১৮৮১ সালের মধ্যে রাশিয়া বর্তমানের তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এদিকে ব্রিটেনও একইভাবে আফগানিস্তান সৃষ্টির পক্ষে সমর্থন জানিয়ে অনুপ্রবেশ করে এশিয়ায়। ১৯ শতকের শেষ দিকে এসে অনেক ইরানিই বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, তাদের দেশ ও শাসকদের একটি বড় অংশ বিদেশিদের স্বার্থে অন্ধ।

উল্লেøখযোগ্য সংস্কার

১৮৯৬ সালে নাসের আল-দীনকে হত্যা করা হয়। এবার উত্তরাধিকার সূত্রে কাজার শাসনক্ষমতায় বসেন তার ছেলে মোজাফ্ফর আদ-দীন। বাবার মতো তারও ভোগবিলাসের প্রতি দুর্বলতা ছিল। অযৌক্তিক খরচ ও বিলাসী জীবনযাপনের জন্য তিনি দ্রুতই অজনপ্রিয় ও অযোগ্য শাসক হয়ে ওঠেন। ইরানের রাজকীয় ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও আইনের প্রকৃত শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯০৬ সালে ইরানি জনগণ কাজার রাজবংশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করে। যার ফলে মোজাফ্ফর শাহ সংবিধান প্রণয়ন করে আইনসভা প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য হন। ফলে কার্যকরভাবে রাজা হিসেবে তার ক্ষমতা হ্রাস পায়। ইরানের রাজনীতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আসার পরের বছরই ইরানের সঙ্গে অ্যাংলো-রাশিয়ান চুক্তি সম্পাদিত হয়, যা ছিল ইরানের ওপর শেষ ধাক্কা। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে ইরানের ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও কাজারদের পতন

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কাজার রাজবংশকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল। তখন ইরানের শাসনক্ষমতায় ছিলেন নাসের দীনের আরেক ছেলে মোহাম্মদ আলি শাহ। যিনি রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির সংবিধানকে বাতিল করার চেষ্টা করেন। এর ফলে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ১৯০৯ সালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন আলি শাহ। এ সময় তার ১১ বছর বয়সী ছেলে আহমাদ শাহ তার স্থলাভিষিক্ত হন। কিন্তু বিলাসী ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য বাবার মতো তিনিও অজনপ্রিয় শাসক হয়ে ওঠেন।

এদিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের এ সময়েই ব্রিটেন, রাশিয়া ও অটোমান সাম্রাজ্য ইরান দখল করা শুরু করে, যা পারস্যের রাজতন্ত্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। এই দখলদারিত্ব থেকে ইরান আর কখনোই বেরিয়ে আসতে পারেনি। এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে তেল আবিষ্কৃত হয়। ফলে ইরানকে নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়। এবার তেলের বাজার দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রিটিশরা। তারা প্রতিষ্ঠা করে ‘অ্যাংলো ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি’। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এই তেল কোম্পানিকে সুসংহত করতেই গোয়েন্দা বাহিনীর মাধ্যমে তারা ১৯২১ সালে ইরানে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল। এবার তাদের সহায়তায় পারস্যের সামরিক বাহিনী কোসাক ব্রিগেডের কমান্ডার রেজা খান পাহলভী ইরানের শাসনক্ষমতায় বসেন। পরে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠা এই রেজা শাহ পাহলভীই ইরানে পাহলভী রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। সাবেক এই সামরিক শাসক ক্ষমতায় বসেই রেজা খান থেকে রেজা শাহ নামে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন।

তখনো পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূখন্ডটি ‘পারস্য’ নামে পরিচিত ছিল। রেজা শাহ পাহলভী একে ইরান নামে নামকরণ করেন। এরপর পশ্চিমাদের অনুকরণে তিনি ইরানকে ধর্মনিরপেক্ষ ও আধুনিক এক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে মনোযোগ দেন। এরই মধ্যে আসে ১৯২৫ সাল। ইউরোপে আহমাদ শাহের অনুপস্থিতিতে ইরানের সংসদীয় পরিষদ কাজার রাজবংশের অবসানের ঘোষণা দেয়। এভাবেই ইরানের প্রায় দেড়শ বছরের প্রভাবশালী কাজার রাজবংশের পতন ঘটে। তবে আজও কাজার রাজ পরিবারের অস্তিত্ব থাকলেও নির্বাসিত জীবন কাটায় তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত