যে ১০ শর্তে খেলা শুরুর অনুমতি

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২০, ০৭:২৬ পিএম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতামতের প্রেক্ষিতে দেশের সকল পর্যায়ে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত আকারে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তবে খেলাধুলা শুরুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোকে মানতে হবে ১০ শর্ত। যে শর্ত বেঁধে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

করোনার কারণে মার্চ থেকে দেশে সব ধরনের খেলাধুলা ও অনুশীলন কার্যক্রম স্থগিত ছিল। দেশের শীর্ষ তিন খেলা- ক্রিকেট, ফুটবল ও হকির অনুশীলন কার্যক্রম সম্প্রতি সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। তবে মাঠে এখনো প্রতিযোগিতা মূলক কোনো খেলাই ফেরেনি।

গত মাস থেকেই অবশ্য আলোচনা চলছিল দেশে সীমিত আকারে খেলাধুলা কার্যক্রম শুরুর। গত ৯ জুলাই যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তথা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মতামত সাপেক্ষে দেশের খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুনরায় চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্প্রতি খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মতামত চেয়ে পত্র প্রেরণ করে।

সোমবার সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এক জরুরি সভা শেষে বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১০ শর্তে সীমিত আকারে খেলাধুলা আয়োজন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে মতামত প্রদান করেছে। এমতাবস্থায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত শর্তসমূহ প্রতিপালন পূর্বক দেশের সকল পর্যায়ে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত আকারে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক শর্তাবলি-

১। খেলাধুলা শুরুর আগে খেলার মাঠ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর পূর্বে মহামারি প্রতিরোধক সরঞ্জাম যেমন- মাস্ক, গ্লাভস, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্টাক্ট ইনফ্রারেড থার্মোমিটার সংরক্ষণ করে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। তদারকি ও বাস্তবায়ন এর দায়িত্বের জন্য একজনকে নির্দিষ্ট করলে ভালো হয়। সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীদের স্বাস্থ্য বিধি প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।

২। সীমিত আকারে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।

৩। খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং খেলাধুলা সংশ্লিষ্ট সকলের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ক্যাম্প শুরুর পূর্বে প্রয়োজনবোধে সবার কভিড-১৯ পরীক্ষা করা যেতে পারে।

৪। খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণকালীন ক্যাম্পে অবস্থানের সময় স্বাস্থ্য বিধি মেনে থাকার ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খাবার গ্রহণ ও খাবারের ব্যবহৃত থালা বাসন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। সম্ভব হলে ডিসপোজিবল প্লেট ব্যবহার করাই ভালো।

ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে হবে। খেলোয়াড়দের ঘুম, বিশ্রাম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখতে হবে। ডিজিটাল/অনলাইনের মাধ্যমে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

৫। খেলা ও প্রশিক্ষণের সময় ব্যক্তিগত পানির বোতল ও তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত সরঞ্জাম এবং জামাকাপড় নিজস্ব ব্যাগে রাখতে হবে। টিস্যু, রুমাল বা অন্যান্য ব্যবহৃত উপকরণ যেমন প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে উপযুক্ত পাত্রে (মুখবন্ধ ময়লার পাত্র) ফেলে দিতে হবে।

৬। অধিক জনসমাগম না করে সীমিত আকারে খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে। মাঠে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় দর্শকদের সারিবদ্ধভাবে পরস্পর হতে এক মিটারেরও বেশি দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

মাঠে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট দূরত্ব (১মিটার) বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি দুজন দর্শকদের মাঝে এক সিট খালি রাখতে হবে।

৭। খেলার মাঠের প্রবেশ পথে খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং বহিরাগত দর্শনার্থীদের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে যাদের শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৪ ফারেনহাইটের বেশি হলে তাদের মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।

৮। খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক/কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট কমিটির মধ্যে কভিড-১৯ সন্দেহভাজন কোনো রোগী থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৯। খেলার মাঠের আবর্জনা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে এবং আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

১০। স্টেডিয়ামে আগত সকলকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার জন্য সহজে দৃশ্যমান হয় এমন স্থানে বিলবোর্ড, রেডিও, ভিডিও ও পোস্টারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচার করার ব্যবস্থা করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত