দীর্ঘ দিন ধরে ট্র্যাকে রাজত্ব করছিলেন শিরিন আক্তার। রেকর্ড টানা ১২ বার দ্রুততম মানবী হয়ে দেশের অ্যাথলেটিকসে নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। এবার সেই শিরিনকে থামতে হলো। বিকেএসপির শিক্ষার্থী সুমাইয়া দেওয়ান জাতীয় অ্যাথলেটিকসে শিরিনকে হারিয়ে জিতে নিলেন দ্রুততম মানবীর খেতাব।
বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে সোমবার মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে শিরিনকে পেছনে ফেলেন সেরা হন সুইমারা। এবারই প্রথম সিনিয়র জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
প্রথমবারই বাজিমাত করতে পেরে দারুণ খুশি সুমাইয়া। দেশ রূপান্তরকে বলছিলেন, ‘প্রথমবার সিনিয়র মিটে অংশ নিয়েই সেরা হতে পেরে আমার খুবই ভালো লাগছে।’
দৌড় শেষ করতে সুমাইয়ার সময় লেগেছে হ্যান্ড টাইমিংয়ে ১২.২০ সেকেন্ড ও ইলেকট্রনিকসে ১২.৩০ সেকেন্ড। দ্বিতীয় হওয়ার নৌবাহিনীর শিরিন দৌড় শেষ করেন ইলেকট্রনিকসে ১২.৩৬ সেকেন্ড সময়ে।
২০১৪ সালে প্রথমবার দ্রুততম মানবীর খেতাব জিতেন শিরিন। গেল আট বছরে ৭টি জাতীয় ও ৪টি সামার মিট এবং সবশেষ বাংলাদেশ গেমসেও দ্রুততম মানবী হন বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী শিরিন।
সেই শিরিনকে হারিয়ে দেওয়া সুমাইয়া তার প্রতিভার জানান দিচ্ছিলেন বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই। সবশেষ জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে ১৯ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভাঙেন তিনি। সেরা হয়েছিলেন ১০০ মিটার স্প্রিন্টেও।
তবে প্রথমবার সিনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েই সেরা হবেন এমন বিশ্বাস ছিল না সুমাইয়ার। বলছিলেন, ‘আমি প্রথম অংশ নিয়েছি। কিছু একটা পাব, সেই আশা আমার ছিল। তবে আমি চ্যাম্পিয়ন হব এমন লক্ষ্য ছিল না। চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে ভালো লাগছে।’
তবে সুমাইয়াকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তার কোচ মো. মেহেদী হাসান। বিকেএসপির সিনিয়ার এই কোচ বেশ তৃপ্ত শিষ্যের সাফল্যে, ‘খুবই ভালো লাগছে ওকে সেরা দেখতে পেরে। সব কোচই তো কাজ করে সাফল্যের জন্য। তবে এটা একার পক্ষে আসলে সম্ভব হয়নি। দুজন মিলেই পরিকল্পনা করে এই সাফল্য এসেছে।’
মেহেদী হাসান আরো বলেন, ‘ও যে সাফল্য পেয়েছে এটা আমাকে অন্য রকম তৃপ্তি দিয়েছে। ১৭ বছরের মেয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবার অংশ নিয়েই চ্যাম্পিয়ন হবে এটা আমার জন্য বড় পাওয়া।’
