পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক জীবনের ভাগ্য পরীক্ষা আগামীকাল রবিবার। দেশটির বিরোধীদের উত্থাপিত অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে রবিবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। ভোটাভুটির আগে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক-বিতর্ক হওয়ার কথাও রয়েছে।
এর আগে পার্লামেন্টের গত দুই অধিবেশনে বিরোধীরা এই বিতর্ক উত্থাপনের চেষ্টা করেন। কিন্তু স্পিকার পার্লামেন্টের অধিবেশন মুলতবি করায় তা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ যেদিন অধিবেশন মুলতবি করা হয়, সেদিন বিরোধীরা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তারা স্পিকারকে বিতর্ক শেষ না করে অধিবেশন মুলতবি না করার আহ্বান জানান। বিরোধীদের ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৩ এপ্রিল দিনটি ধার্য করা হয়েছিল বিতর্ক ও ভোটাভুটির জন্য।
কয়েক দিন আগেই পিটিআইর জোটসঙ্গী এমকিউএম আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন ইমরান। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে মোট আসন ৩৪২টি। ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ১৭২টি ভোটের প্রয়োজন হবে।
এখন পর্যন্ত বিরোধী জোটের হাতে রয়েছে ১৯৯ ভোট। অপরদিকে ইমরান সরকারের রয়েছে ১৪২ ভোট। অথচ জাতীয় পরিষদে পিটিআইর ১৫৫ আইনপ্রণেতা রয়েছেন। এর মানে ইমরানের নিজ দলের ১৩ আইনপ্রণেতার ভোটও বিরোধী জোটে যাচ্ছে।
অনাস্থা ভোটের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, তাকে মেরে ফেলতে পারে।
গত শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি ভীত নন; দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতার স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রবিবারের অনাস্থা ভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত’ (শক্তিশালী সামরিক বাহিনী) বাহিনী তাকে তিনটি বিকল্প দিয়েছে। এই বিকল্প তিনটি হলো অনাস্থা ভোট, আগাম নির্বাচন বা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শুধু তার জীবনই বিপন্ন নয়, বিদেশিদের হাতে খেলা বিরোধী দলও তার চরিত্র হননের চেষ্টা চালাবে।
বিরোধীরা তাকে কী বিকল্প দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরান খান বলেন, তিনি মনে করেন না বিরোধী নেতা শাহবাজ শরিফের মতো লোকদের সঙ্গে তার কথা বলা উচিত।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, যদি আমরা বেঁচে থাকি (অনাস্থা ভোট), আমরা অবশ্যই তাদের সঙ্গে কাজ করতে পারি না, আগাম নির্বাচনই সেরা বিকল্প।
ইমরান খান বলেন, আমি আমার জাতিকে অনুরোধ করব আমাকে একটি সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেওয়ার জন্য যাতে আমাকে আপস করতে হবে না। বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবকে একটি ষড়যন্ত্র বলেও অভিহিত করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে বিরোধী দলগুলো। গত ২৮ মার্চ জাতীয় পরিষদে আলোচনার জন্য অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ প্রস্তাব নিয়ে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি। বিধি অনুযায়ী প্রস্তাব উত্থাপনের পর আলোচনা শুরু করতে ন্যূনতম তিন দিন থেকে সর্বোচ্চ সাত দিন সময় নেওয়া যায়।
