একিউট অগ্ন্যাশয় প্রদাহ

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০৭:৫৬ এএম

হঠাৎ পেটে ব্যথা, অল্প সময়ের মধ্যে তীব্রতা বেড়ে পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়া। গ্যাস্ট্রিক ভেবে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বা ব্যথানাশক খেয়েও ব্যথা না কমা। ব্যথার তীব্রতায় সামনে ঝুঁকে থাকা সঙ্গে বমি, পাল্স বেড়ে যাওয়া, খাওয়ার পর ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি এ ধরনের উপসর্গ অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়েজের প্রদাহ বা সংক্রমণ হিসেবে ধরা হয়।

অগ্ন্যাশয় কী?

অগ্ন্যাশয় অতি প্রয়োজনীয় মিশ্র গ্রন্থি। যা আমাদের ওপরের পেটের সামান্য বাম দিকে একটু পেছনে থাকে যা থেকে সৃষ্ট বিশেষ রস বা এনজাইম আমাদের খাবার বিপাকীয় কাজে অপরিহার্য তেমনি জরুরি কিছু হরমোন (ইনসুলিন, গ্লুগাগন) নিঃসরণের মাধ্যমে আমাদের সুস্থ রাখে। অগ্ন্যাশয়ের রোগ আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে হুমকিতে ফেলে।

কারণ

 পিত্তথলি, পিত্তনালি অথবা অগ্ন্যাশয়ের নালিতে পাথর

 রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড-সহ লিপিড প্রোফাইলের মাত্রা বেশি

 মদ্যপান, ধূমপান

 পেটে কোনো অস্ত্রোপচার, আঘাত বা সংক্রমণ  

 পারিবারিক ইতিহাস

 শরীরের ওজন বৃদ্ধি

 কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, সংক্রমণ

 ইলেক্ট্রোলাইট ও হরমোনের তারতম্য

 অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস

করণীয়

অনিয়ন্ত্রিত পেটে ব্যথা থাকলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত। জটিল এ রোগের শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসাব্যবস্থা দ্রুত করতে হয়। দেরি হলে বিভিন্ন অঙ্গে জটিলতা, প্যারালাইজড এমনকি মৃত্যু হতে পারে। ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসাব্যবস্থা হাসপাতালে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিত। কারণ ওষুধের পাশাপাশি নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি সার্জারি এমনকি আইসিইউতে নিরীক্ষণের দরকার হয়।

প্রতিকার

হার্ট, লিভার, কিডনির অসুখ নিয়ে যেমন সচেতনতা দেখা যায়, অগ্ন্যাশয়ের বিষয়ে  তেমনটা দেখা যায় না। পর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ের  রোগকে গ্যাস্ট্রিক এসিডিটি ভেবে সঠিক চিকিৎসা দেরি হয়। অগ্ন্যাশয়ে একিউট প্রদাহ ছাড়াও ক্রোনিক প্রদাহ, সিস্ট, কার্যকারিতা কম এমনকি ক্যানসার হতে পারে।

প্রতিদিন ৮ থেকে ১১ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। নিয়ম করে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম বা হাঁটাতে হবে। চর্বি জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। মৌসুমি ফলমুল বিশেষ করে চেরি, আঙ্গুর, শাক-সবজি, টকদই, মাশরুম, রসুন-সহ সুষম আঁশযুক্ত খাবারে অভ্যস্ত হতে হবে। মদ ও ধূমপান অগ্ন্যাশয়সহ শরীরের জন্য চরম ক্ষতি করে। চিনি, ফাস্টফুড, বেশি ভাত খাওয়া কমাতে হবে। মুখের স্বাস্থ্যরক্ষায় সতর্ক থেকে মাড়িকে সুস্থ রাখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি মাড়ি রোগ অগ্ন্যাশয়কে ক্ষতি করে। তাই মাড়ি ফুলে থাকা বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া রোগ অবহেলা করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। বছরে অন্তঃত একবার অভুক্ত লিপিড প্রোফাইল চেক করতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখা, পিত্তথলিতে পাথর শনাক্ত হলে দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত