গণমাধ্যমের ওপর নতুন বাধা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার আরও সীমিত করার পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন তাদের প্রেস অফিসকে ‘শ্রেণিবদ্ধ তথ্য সংরক্ষণ এলাকা’ (ক্লাসিফায়েড স্পেস) ঘোষণা করেছে। ফলে এখন থেকে সাংবাদিকরা ওই অফিসে প্রবেশ করতে পারবেন না।

পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জোয়েল ভালদেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অফিসটিতে বর্তমানে এমন লেখকরা কাজ করছেন, যারা নিয়মিত গোপনীয় ও শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ব্যবহার করেন। এ কারণেই এলাকাটিকে বিশেষ নিরাপত্তা জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। 

ভালদেজ লিখেছেন, 'পেন্টাগনের প্রেস অফিসকে এখন সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন ফ্যাসিলিটি (এসসিআইএফ) হিসেবে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সাংবাদিকদের আর সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এতে বিতর্কের কিছু নেই।'

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের চলমান বিরোধের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার, স্বচ্ছতা এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে নিশ্চিত করা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে।
 
বহু বছর ধরে পেন্টাগনে কর্মরত সাংবাদিকরা বিশেষ পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভবনের বিভিন্ন অংশে চলাচল করতে পারতেন এবং প্রেস কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পেতেন। তবে গত অক্টোবরে সরকারি বিধিনিষেধ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম তাদের বিশেষ প্রবেশপত্র জমা দিয়ে পেন্টাগন ত্যাগ করে।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস চলতি বছরের ১৮ মে পাঁচ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পেন্টাগনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পত্রিকাটির দাবি, পেন্টাগন এলাকায় সাংবাদিকদের বাধ্যতামূলকভাবে নিরাপত্তা সহকারীর সঙ্গে চলাচলের নিয়ম সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং সামরিক বিষয়ক স্বাধীন প্রতিবেদনে বাধা সৃষ্টি করছে।

এর আগে গত ডিসেম্বরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জারি করা নতুন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। পরে একটি ফেডারেল আদালত ওই বিধিনিষেধের কিছু অংশ বাতিল করলে পেন্টাগন নতুন অন্তর্বর্তী নীতি চালু করে, যেখানে সাংবাদিকদের সব সময় নিরাপত্তা সহকারীর সঙ্গে থাকার শর্ত আরোপ করা হয়।

মার্চে আদালতের নির্দেশের পরও ওই নীতি কার্যকর রাখা হয়। পরবর্তীতে একজন ফেডারেল বিচারক এটিকে আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী বলে রায় দিলেও আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সাংবাদিকদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এখনো বহাল রয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত