সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণে অভিযুক্ত শান্তকে (২৫) দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। ওই দাবিতে তারা মানববন্ধনও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলাবাসী ও ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সংগঠনের উদ্যোগে উপজেলা চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে অভিযুক্ত শান্তর ফাঁসির দাবিতে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতা মো. শরিফুল ইসলাম, জলবায়ু ও পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস, রায়গঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের, ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সমিতির সহ সভাপতি রিনা বেগম এবং পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন হাসিনুর।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, গত ২৬ এপ্রিল আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে পূর্ব লক্ষীকোলা গ্রামের বেল্লাল হোসেনের ছেলে শান্ত তাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর থেকে অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসা করাতে করাতে আমরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও অভিযুক্ত শান্ত এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। বিভিন্নভাবে আপসের প্রস্তাব ও চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি কোনো আপস চাই না। আমি আমার মেয়ের বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, একজন অসহায় প্রতিবন্ধী শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার পরও যদি অপরাধী ধরা না পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় বিচার পাবে? আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
এ সময় অন্য বক্তারা বলেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা না হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিচার চাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো আপসের সুযোগ নেই বলে তাঁরা মন্তব্য করেন। এ মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্তের ফাঁসি ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
