মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় বাংলাদেশের সীমা সরকার

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৯ পিএম

২০১৮ সালের জন্য প্রণীত বিবিসির ১০০ অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের সীমা সরকার। শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে কোলে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাওয়ার সূত্রে তিনি ওই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

তালিকায় স্থান পেয়েছেন ৬০টি দেশের ১০০ জন নারী। এদের ভেতর রয়েছেন ১৫ বছর থেকে শুরু করে ৯৪ বছর বয়সীরা। তালিকায় যেমন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নোবেল পুরস্কারজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন শরিয়া আইনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে আগ্রহী বিচারক ও নারীদের যৌন সামগ্রী ব্যবহারে উৎসাহী করতে কাজ করে যাওয়া অ্যাক্টিভিস্ট। ‘যিশু খ্রিস্টের বাগদত্তা’ও রয়েছেন ওই তালিকায়।

বর্ণের ক্রমানুসারে করা তালিকায় সীমা সরকারের নাম রয়েছে ৮১তম স্থানে। প্রণীত তালিকায় সীমা সরকারকে নিয়ে লেখা হয়েছে- ৪৪ বছর বয়সী সীমা একজন ‘সার্বক্ষণিক মা’। ১৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলেকে কোলে করে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় তোলা তার এক ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কোলে করে ছেলেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন সীমা। তার সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখান থেকে সংগ্রামী এই মায়ের গল্প উঠে আসে মূল ধারার সংবাদমাধ্যমে। সীমা সরকারের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলের নাম হৃদয়। মায়ের কোলে চড়ে তিনি স্কুল-কলেজের গণ্ডি পার করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়েও মা-ই ছিল তার ভরসা। হৃদয় সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

প্রতিবন্ধী ছেলেকে পড়াশোনা করানোয় নিগ্রহের শিকারও হয়েছেন সীমা সরকার। স্বল্প আয়ের পরিবারে প্রতিবন্ধী শিশুকে পড়াতে গিয়ে আর্থিক অনটনেও পড়েছেন তিনি। বাংলাদেশে প্রায় কোনো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানেই শারীরিক প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য ব্যবস্থা নেই। ছেলেকে কোলে নিয়ে তিন-চার তলা সিড়িও বেয়েছেন সীমা।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত