শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

খাসোগি হত্যা

সৌদি যুবরাজকে রক্ষায় ‘মার্কিন পরিকল্পনা’

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৫৭ পিএম

সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দারস্থ হয়েছেন। এজন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কাছ থেকে একটি ‘গোপন পরিকল্পনাও’ পেয়েছেন তারা।

লন্ডন ভিত্তিক মিডল ইস্ট আই (এমইই) সৌদি সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, খাসোগি হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কাছ থেকে একটা রোডম্যাপ পেয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গত মাসে রিয়াদে এক যৌথ বৈঠকে তাদের কাছে পরিকল্পনা হস্তান্তর করেন পম্পেও।

এমইই জানায়, রিয়াদে সেই বৈঠকের সময় সৌদি নেতৃবৃন্দের সাথে উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন এ সূত্র।  তিনি জানান, পরিকল্পনায় আছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে সৌদি রাজপরিবারের ঊর্ধ্বতন কোনো সদস্যের ওপর খাসোগি হত্যার দায় চাপানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া এই রোডম্যাপ আছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জিম্মায়। তিনি পশ্চিমা মিডিয়ায় এমবিএস নামে পরিচিত।

সূত্রটি বলেছে, “এ ঘটনার দায় কার ওপর চাপানো হবে সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এরকম কিছু যদি ঘটে যায় তাতে আমরা আশ্চর্য হবো না।”

তবে সৌদি সূত্রের এমন দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানায়, এ ধরনের অভিযোগ সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতি সম্পূর্ণ অপপ্রচার।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নোয়ার্ট এমইইকে বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য সবার জানা। সেটি হচ্ছে- জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছি আমরা।”

সূত্রটি জানায়, পম্পেও গত ১৬ অক্টোবর সৌদি নেতৃবৃন্দের কাছে এই পরিকল্পনা হস্তান্তর করেন। খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাদশাহ সালমান এবং এমবিএস আন্তর্জাতিক মহলে চরমভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়লে তাদেরকে আশ্বস্ত করতে রিয়াদে উড়ে যান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দুই সপ্তাহ আগেই ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক খাসোগি হত্যার শিকার হন।

সৌদি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ওই বৈঠকের পর পম্পেও সাংবাদিকদের জানান, সৌদি আরবকে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, “আমরা আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক দুইভাবে আলোচনা করেছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সৌদি আরব তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে আমি এ ব্যাপারে আশাবাদী।”

তবে সূত্রের দাবি, এই বৈঠকে ঘটনার তদন্ত, জবাবদিহি, সেইসঙ্গে সৌদি নেতৃবৃন্দের দায় নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। তবে অনানুষ্ঠনিক আলাপে সৌদি নেতৃবৃন্দের প্রতি একটি পরিকল্পনা হাজির করেন পম্পেও। কয়েকটা ধাপে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হয় সেখানে।

খাসোগি হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পম্পেওর পরিকল্পনায় যে কোনো কিছু করতে পারে তারা (সৌদি নেতৃবৃন্দ), দাবি এই সূত্রের।

পম্পেও ১৮ অক্টোবর ঘোষণা দেন, এ ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করতে সৌদি আরবকে আরও কিছুদিন সময় দেয়া উচিত। ওই সূত্রের ভাষ্য, মূলত তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই সৌদি আরবকে এ বাড়তি সময় দেয়ার কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন জামাল খাসোগি। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলামিস্ট।

শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করে সৌদি। তবে সংবাদমাধ্যমে তুর্কি গোয়েন্দাদের একের পর এক ‘তথ্য ফাঁসে’র মুখে ১৯ অক্টোবর খাসোগি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। যদিও এর সাথে সৌদি যুবরাজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তারা দাবি করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত