শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

খাসোগি হত্যায় সিআইএ’র তদন্তে কান দিচ্ছেন না প্রিন্স তুর্কি

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৭ পিএম

সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সৌদি রাজপরিবারের প্রভাবশালী সদস্য ও কূটনীতিক প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল। খাসোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনা ছিল দাবি করে গেল সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় সিআইএ।

প্রিন্স তুর্কিকে উদ্ধৃত করে আলজাজিরা বলছে, সিআইএ’র মূল্যায়ন বিশ্বাসযোগ্য কোনো উপসংহারে পৌঁছাতে পারেনি, গ্রহণ করার মতো কিছুই নয় এটি।

শনিবার আবুধাবিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে সর্বোচ্চ সত্য অনুসন্ধান ও নিরপেক্ষতার ঘাটতি ছিল সিআইএ’র এ মূল্যায়নে।”

প্রয়াত সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজের ছেলে প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূতও ছিলেন তিনি।

প্রিন্স তুর্কি আরো বলছেন, “ইরাকের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র আছে সিআইএ’র এমন প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০০৩ সালে দেশটিতে মার্কিন হামলা হয়। সেই প্রতিবেদনটিও বিশ্বাসযোগ্য ছিল না। সেটি ছিল একেবারেই ক্রুটিযুক্ত এবং ভুল অনুসন্ধান। অথচ এর কারণেই একটা বড় ধরনের যুদ্ধ সংঘটিত হলো এবং হাজার হাজার মানুষ মারা গেল।”

“আমি বুঝতেছি না- সিআইএকে কেন যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে না। তাদের অনুসন্ধানে কোনভাবে প্রকাশ পায় না যে, ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে কে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে, কারা দোষী এবং কারা দোষী নয়”

সৌদি যুবরাজের নির্দেশেই খাসোগিকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে সিআইএ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় বলে ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম খবর প্রকাশ করে। পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এ প্রতিবেদন নিয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এ প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিন সালমান জড়িত থাকার সম্ভবনা থাকলেও সিআইএ’র প্রতিবেদনকে ‘অপরিপক্ক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে অবশ্য তিনি বলেন, খাসোগি হত্যার জন্য সৌদিকে দায়ী করেনি সিআইএ।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন জামাল খাসোগি। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলামিস্ট।

শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করে সৌদি। তবে সংবাদমাধ্যমে তুর্কি গোয়েন্দাদের একের পর এক ‘তথ্য ফাঁসে’র মুখে ১৯ অক্টোবর খাসোগি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। যদিও এর সাথে সৌদি যুবরাজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তারা দাবি করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত