দ্বিতীয় দিনের মতো বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন দলের মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভ করে কেউ টিকিট পেলেও কেউ পেলেন সান্তনা।
রোববার সকাল থেকে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে কয়েকশ মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থক। বেলা ১১টার দিকে কার্যালয়ের ভেতর থেকে মাইকে বলা হয়, ‘আজকে অফিস বন্ধ, এখানে জটলা করে কোনো লাভ নেই।’
কার্যালয়ের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা শনিবার গভীর রাতে কার্যালয় ত্যাগ করেন। আজ সকালে আর কেউ আসেননি।
কার্যালয়ের সামনের ফটক আগলে বসে ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী শেখ মো. আবদুল্লাহর সমর্থকরা। এ আসনে চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের কর্মী হামিদ বলেন, ‘শাহ মোয়াজ্জেমের বয়স হয়ে গেছে। এলাকায় যান না। তার সঙ্গে কর্মীদের যোগাযোগ নেই। এই আসনে একজন সার্বক্ষণিক নেতাকে মনোনয়ন না দিলে আসন পাওয়া কঠিন হবে।’
কার্যালয়ের আরেকটি ফটকের সামনে বসে ছিল কুমিল্লা-৪ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মনজুরুল আহসান মুন্সির সমর্থকরা। এই আসনে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন জাতীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন।
মনজুরুল আহসান মুন্সির সমর্থক দলের কর্মী সোহরাব বলেন, ‘মুন্সীভাই আমাদের দলের নেতা, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির নেতা। তিনি চারবারের সংসদ সদস্য। তাকে বাদ দিয়ে যাকে দেওয়া হয়েছে তিনি কখনই এলাকায় যান না। আমরা তাকে চিনি না, তাকে আমরা মানি না। অবৈধ নমিনেশন মানি না।’
এদিকে ঢাকা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত খন্দকার আবু আশফাকের সমর্থকরা গুলশান কার্যালয়ে এসে বিক্ষোভ করেন। পরে তাকে দলের মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়। এ সময় তার সমর্থকরা চলে যান।
এছাড়া ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ায় মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক। তিনি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রথমে কার্যালয়ে আসেন। পরে তাকে কার্যালয়ের ভেতরে ডেকে সান্তনা দেওয়া হয়। পরে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে কার্যালয় ত্যাগ করেন।
