সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমশ উষ্ণ হতে যাওয়া সম্পর্ক সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় হোঁচট খেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে গোপন উদ্যোগটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সৌদি আরবের একটি গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এমনটা জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমটি জানায়, খাশোগি হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতা এবং তৎপরতা সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ মনে করছেন তিনি।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি যুবরাজের মিডিয়া উপদেষ্টা সাউদ আল-কাহতানি এবং গোয়েন্দা সংস্থার উপ-প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ আসিরিকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
এই দুই গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টার মাধ্যমেই মূলত ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন যুবরাজ।
সৌদি সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, “এই দুজনকে চাকরিচ্যুত করার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এটি হয়েছে। তবে সৌদি আরব এই বাধা কাটিয়ে ওঠার জন্য বড় ধরনের প্রচেষ্টা চালাবে।”
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন জামাল খাশোগি। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলামিস্ট।
শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করে সৌদি। তবে সংবাদমাধ্যমে তুর্কি গোয়েন্দাদের একের পর এক ‘তথ্য ফাঁসে’র মুখে ১৯ অক্টোবর খাশোগি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। যদিও এর সঙ্গে সৌদি যুবরাজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তারা দাবি করে।
তবে আন্তর্জাতিক চাপে খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি রাজপরিবারের সম্পৃক্ততা জোরালো হলে ২০ অক্টোবর যুবরাজের প্রধান সহযোগী দেশটির রয়্যাল কোর্ট অ্যাডভাইজার সাউদ আল-কাহতানি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা জেনারেল ইন্টেলিজেন্স প্রেসিডেন্সির (জিআইপি) উপ-প্রধান আহমেদ আসিরিকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ ঘটনায় সৌদি প্রসিকিউশন মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্তে নামে।
খাশোগি হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেহে চলতি মাসের শুরুতে আল-কাহতানি এবং আসিরির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটর। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে সৌদি যুবরাজের এ দুই উপদেষ্টাকে তুরস্কের হাতে তুলে দিতে সৌদি আরবকে অনুরোধও জানায় ইস্তাম্বুল। তবে তা নাকচ করে দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
