বাঁশের কঞ্চি ছেঁটে ওদের পাতে জোটে না ভাত

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:০০ এএম

প্লাস্টিক সামগ্রীর প্রসার, প্রয়োজনীয় পুঁজি, পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে চরম সংকটে  রয়েছে পটুয়াখালীর বাঁশ দিয়ে বানানো কুটিরশিল্প। উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর ন্যায্যমূল্য না থাকায় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই পেশা পাল্টাতে শুরু করেছেন। কিন্তু দারিদ্র্য মেনে নিয়েও পূর্বপুরুষের পেশাকে এখনো আগলে রেখেছেন ঐ কারিগররা।

একসময় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গের মধ্যে বাঁশের তৈরি পণ্য সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা ছিল অনেক। কুলা, খাঁচা, চালনি, চাটাই, ডোল, ঝুড়ি, পলো, ডালা প্রভৃতি বাঁশজাত পণ্যের ছিল ব্যাপক চাহিদা। কিন্তু কালের বিবর্তনে বাঁশের তৈরি এসব সামগ্রীর স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক পণ্য।

বাঁশের তৈরি সামগ্রীর একটি বড় অংশের জোগান আসে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা থেকে। এক সময়ে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছিল প্রায় শতাধিক কারিগরের পরিবারের বসবাস। বাঁশের সামগ্রী তৈরি করে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনসহ ছিল আর্থিক সচ্ছলতা। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে এই কুটিরশিল্পে বিরাজ করছে চরম মন্দাবস্থা। একদিকে কম চাহিদা, অন্যদিকে বাঁশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে শিল্পীদের অনেকেই তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাতেগোনা কয়েকজন শিল্পী অনেকটা নিরুপায় হয়ে এ পেশায় টিকে থাকার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীলতায় যে সব শিল্পী রয়েছেন, তারাও অনেকে বেকারত্বসহ আর্থিক দৈন্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বাঁশ শিল্পী নমিতা রানী জানান, ‘বাপ-দাদার পেশাটা আঁকড়ে ধরে আছি। ছেলে-মেয়েরা এখন আর এ পেশায় থাকতে চাচ্ছে না। পরিশ্রম বেশি, লাভ কম। আগের মতো চাহিদাও নেই।’ তিনি জানান, একদিকে বাঁশের দাম বেড়ে গেছে। অন্যদিকে পুঁজি সংকট। চাহিদা ও ভালো মুনাফা করতে না পেরে তাদের পরিবারেও যাচ্ছে দুর্দিন।

চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির অংশ পরিবেশবান্ধব বাঁশশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পেশা সংশ্লিষ্টদের বিনাসুদে কিংবা স্বল্পসুদে ঋণসহ প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা জরুরি। বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার পীযূষ চন্দ্র দে বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত বাঁশশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করার হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত