নির্বাচনে জামায়াতের কোনো প্রার্থী নেই: বিএনপি

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৬ পিএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, তারা শুধু ধানের শীষের প্রতীক নয়, তারা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করছেন তারা। বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ তাদের দেওয়া হয়েছে। জামায়াত তাদের মনোনীত করেনি। বিএনপি মনোনীত করেছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আদালতকর্তৃক স্থগিত হওয়ার বিএনপির প্রার্থীদের  আসনে নির্বাচন স্থগিত অথবা প্রার্থিতা পরিবর্তনের সুযোগ চেয়ে শনিবার দুপুরে সিইসির কাছে এ-সংক্রান্ত  একটি চিঠি দিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

 বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া জামাতের নেতাদের পদপদবি তাদের দলীয় ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন বলেন,  ওয়েবসাইটে পদপদবি থাকুক। আপনারাও যদি আমাদের কাছে মনোনয়ন চান, আমরা দিতে পারি। কোনো ওয়েবসাইটে আপনার নাম কীভাবে আছে সেটা পরের ব্যাপার। আমরা আইনের মাধ্যমে দিতে পারি কিনা সেটা হলো বিষয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াত কোনো নিবন্ধিত দল নয়। কারা কারা জামায়াত করে সেই তালিকাও আমাদের কাছে নেই। আমরা যাদের মনোনয়ন দিয়েছি, তারা আমাদের দলের প্রতীক ধানের শীষ পেয়েছে।

তিনি বলেন, এটা যদি অবৈধ হতো তাহলে নির্বাচন কমিশন আগেই বলত, তাদের প্রার্থিতা অবৈধ।  তাদের যদি প্রতীক দেওয়া বেআইনি হতো, যখন প্রতীক বরাদ্দ করা হয় তখন  নির্বাচন কমিশন কেন প্রতীক বরাদ্দ করল।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আদালত ১২/১৪ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব আসনের নির্বাচন স্থগিত রেখে আবার নির্বাচনের দাবি করছি। অথবা এসব আসনে আমাদের প্রার্থী পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হোক।  নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বৈধতা দেওয়ার কারণেই তাদের আমরা মনোনীত করেছি। কমিশন যদি সেই সময় অবৈধ ঘোষণা করত আমরা অন্য প্রার্থী দিতাম।

 

সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি, হামলা, ধরপাকড়, মামলা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একদিকে  পরিকল্পিতভাবে আদালত কর্তৃক প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ প্রার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, বরিশাল-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী শিরিন আক্তার তাকে গতকাল মারধর করে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শনিবার পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। সেখানে তাকে দেখতে যাওয়া ৮/১০ নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে। বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনা নির্বাচন করার আগে চাকরি ছেড়ে দিলেও তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু একই নির্বাচনী এলাকায় একজন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা সত্ত্বেও মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

‘অন্যদিকে ঢাকা-১৭ এর গুলশান এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী অভিনেতা ফারুক (আকবর হোসেন পাঠান) ঋনখেলাপী হলেও তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়নি’।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার তাদের দেশে আসতে বাধা দিচ্ছে। তাদের ভিসা না দিলে তারা কীভাবে আসবেন। কারণ সরকার নির্বাচনের নামে যে কাজটি করতে চাচ্ছে সেটি হলো চুরিচামারি। আর কাজে বাধা হতে পারে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা। এ কারণেই তারা বিদেশি পর্যবেক্ষক আসতে দিচ্ছে চাচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত