পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবকে কুপিয়ে গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শহরের আলহাজ্ব মিলস্ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এই খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে আতঙ্ক দেখা দেয়।
বর্তমানে ঈশ্বরদীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক পাহারা বসানো হয়েছে।
উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বুধবার দুপুর ১২টায় ঈশ্বরদী শহরের আলহাজ্ব মোড় থেকে বাজার অভিমুখে ধানের শীষের একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়া কথা ছিল। মিছিলে অংশ নিতে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব তার শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে আলহাজ্ব স্কুল মাঠে জড়ো হন।
এ সময় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সেখানে উপস্থিত হয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। সে সময় সন্ত্রাসীরা হাবিবুর রহমান হাবিবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে রক্ষায় কর্মীরা এগিয়ে এলে তাদেরও বেধড়ক মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত হাবিবসহ অন্যদের উদ্ধার করে কড়া পুলিশ পাহারায় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করে। সেখানে হাবিবকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম শামীম জানান, বিএনপি নেতা হাবিবের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তার কোমর, উরু ও পায়ে বেশ কয়েকটি ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সেখানে ২২টা সেলাই করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এরপর তাকে পুলিশ ও বিজিবির কড়া পাহারায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাবিবের ভাই আব্দুস সাত্তার বাচ্চু জানান, হাবিব ভাই তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও মিছিল করার জন্য একত্রিত হওয়ার সময় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে হাবিবসহ তাদের সাতকর্মী গুরুতর আহত হয় বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সন্ত্রাসীরা গত কয়েক দিন ধরেই হাবিব ভাইকে নানা ধরণের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় হামলা হলো।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, হাবিবুর রহমান হাবিবের কর্মসূচি বিষয়ে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সর্তক অবস্থায় ছিল। কিন্তু মিছিল শুরু হওয়ার আগেই ১০/১২টা মোটরসাইকেল নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী সেখানে হামলা চালিয়ে হাবিবসহ অন্যদের কুপিয়ে জখম করে।
তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
