সকল সরকারি বাহিনী নৌকাকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছে: আমির খসরু

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৩২ পিএম

দেশের মানুষ দশ বছর পর নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উদগ্রীব হয়ে আছে। আর এ মুহূর্তে সকল সরকারী বাহিনী নৌকাকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, দশ কোটি ভোটার তাদের নিজস্ব প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চায়। তারা একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার চায়। তাই সকল ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে ৩০ ডিসেম্বর মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে। 

বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর মেহেদীবাগস্থ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

এবারের নির্বাচনকে অনেক বেশি ঘটনাবহুল আখ্যায়িত করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো এমনটি হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। আমার জীবদ্দশায় এই রকম ঘটনাবহুল নির্বাচন আমি কখনো দেখিনি।

নির্বাচনটা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, এখানে দু’টি রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে তা আমাদের মনে হচ্ছে না। সরকারি সংস্থাগুলো যেভাবে নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে তাতে মনে হচ্ছে সরকারি প্রার্থীর সাথে বিরোধী দলের প্রার্থীর নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনে সরকারি প্রত্যেক সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে সরকার কিছু লোককে মনোনয়ন দিয়েছে আর সকল সরকারি বাহিনী তাদের (নৌকাকে) বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছে। সব সরকারি সংস্থা তারা ব্যবহার করছে। দিন দিন এই প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রম চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন পুলিশ নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়ীতে হানা দিচ্ছে, গ্রেফতার করছে। গ্রেফতারের তালিকায় প্রথমে বিএনপির নেতাকর্মী ছিলো তারপর যারা আগামী নির্বাচনে এজেন্ট হবে তাদের গ্রেফতার করছে। প্রার্থীর উপর হামলা হচ্ছে। অনেক প্রার্থী সরাসরি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, অনেকে বাড়ীতে বন্দী অবস্থায় আছেন। আবার অনেক প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে গাড়ীতে পেট্রোল বোমা, পাইপগান রেখে নাটক সাজাচ্ছে। 

পুলিশী অভিযানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বুধবার রাতে আমাদের ২৭ নং ওয়ার্ডের কর্মী সাদ্দামের বাড়ীতে গিয়ে এমন তাণ্ডব চালিয়েছে যে তার মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার কয়েকদিন আগে জেলে যাওয়ার সময় আরেকজনের মা মারা গেছে। আমাদের আরেকজন কর্মী পুলিশের তাড়া খেয়ে ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে। যারা আজ সুরক্ষা দেয়ার কথা  তারাই এখন এসব কাজে ব্যবহার হয়ে যাচ্ছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত