আজও চলবে কার্যক্রম

পণ্য ডেলিভারি হ্রাস পেতে পারে চট্টগ্রাম বন্দরে

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৩৪ পিএম

আজ ভোটের দিন সাধারণ ছুটি থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম চলবে। তবে বন্দর ও কাস্টমসের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর লোকজনের অনুপস্থিতির কারণে পণ্য ডেলিভারি হ্রাস পেতে পারে মনে করছেন বন্দর-সংশ্লিষ্টরা।

সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটাধিকার ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা আজ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বন্দর, কাস্টমস, ব্যাংক সব বন্ধ থাকছে। সেই সঙ্গে আগামীকাল ব্যাংক হলিডে থাকার কারণে দুই দিন বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি ব্যাহত হতে পারে। ফলে বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার জট সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সাধারণ ছুটির আওতায় বন্ধ বন্দরের প্রশাসনিক কর্মকা- বন্ধ থাকবে। তবে অপারেশনাল কর্মকা- চালু রাখা হবে।’ 

বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) গোলাম সরওয়ার গতকাল দুপুরে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বন্দরের অপারেশনাল ও ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল আটটার রিপোর্টে দেখা গেছে, পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় মোট ৮ হাজার ৭৮৪ টিইইউ (টুয়েন্টিফুট ইক্যুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে জাহাজ থেকে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার নামানো হয়েছে ৪ হাজার ৪২৪ টিইইউ এবং জাহাজে শিপমেন্ট করা হয়েছে ৪ হাজার ৩৬০ টিইইউ। একই সঙ্গে কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে ৪ হাজার ৭০১ টিইইউ।’ 

 ডেলিভারি হ্রাস পেলেও ইয়ার্ডে কনটেইনার জটের আশঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে বর্তমানে ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউ কনটেইনারের ধারণক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচন ও ব্যাংক হলিডে’র কারণে পণ্য ডেলিভারি কিছুটা হ্রাস পেলের বন্দরে কনটেইনার জটের আশঙ্কা নেই।’ 

বন্দরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর জেটি ও বহির্নোঙরে অবস্থানরত মোট জাহাজের সংখ্যা ৮৫টি। এর মধ্যে জেটিতে ১৬টি ও বহির্নোঙরে ৪২টি জাহাজে পণ্য খালাসের কাজ চলছিল। এর বাইরে বহির্নোঙরে তিনটি কনটেইনার জাহাজসহ মোট ২৩টি জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষা করছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্দরের ডেলিভারি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের লোকজনের অনুপস্থিতির কারণে গতকাল ডেলিভারি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। বন্দর ও কাস্টমস হাউস খোলা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। বন্দরের শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এবং সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচন উপলক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় চলে যাওয়ায় ডেলিভারি কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান শারমীন ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. ফয়সল মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, বন্দরে হ্যান্ডলিং কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও প্রয়োজনীয় শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কম থাকায় ডেলিভারি খুব বেশি হচ্ছে না। ভোটের দিন বন্ধ থাকায় এবং পরদিন ব্যাংকের ক্লোজিং থাকায় দুই দিন ভেলিভারি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত