বিয়ের অনুষ্ঠান জমে উঠেছে পুরোদমে। এমন সময় সমুদ্রতীরবর্তী নিজ গ্রামে প্রবল ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার আওয়াজ শুনলেন ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দা আন্দি করিম। কিছু একটা হতে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত বাড়ির দিকে ছুটলেন ৩২ বছর বয়সী যুবক। সেখানে ঘুমিয়ে ছিল তার ৩৩ বছর বয়সী স্ত্রী পুত্রি আনিতা, পাঁচ বছরের ছেলে ও তিন মাসের মেয়ে।
‘ঘরে ঢুকে দেখি ঢেউয়ের তোড়ে আমার পরিবারের সদস্যদের দিকে হেলে পড়েছে একটি আলমারি। চাপা পড়া থেকে রেহাই পেতে আমার স্ত্রী এটা ধরে রেখেছিল’, আলজাজিরাকে বলেন করিম।
জীবিত থাকা করিমের পরিবারের সদস্যরা তখন আটকা। প্লাইউডের আলমারিটি তাদের মশারির ওপর পড়েছিল। এ নিয়ে দুই সন্তানের জনক বলেন, ‘আমার স্ত্রী আলমারিটা ধরে রেখেছিল, যাতে এটি বাচ্চার গায়ের ওপর না পড়ে। কিন্তু মশারির নিচ থেকে তাদের বের করতে পারছিল না সে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, সে মৃত্যুর গ্রহর গুনছে।’
গত শনিবার রাতে করিমের গ্রাম রাজাবাসায় আঘাত হেনেছিল প্রলয়ংকরী সুনামি। এ দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপের লামপাং ও বানতেন প্রদেশ।
দেশটির সুন্দা প্রণালির আগ্নেয়গিরি আনাক ক্রাকাতোয়ায় উদগিরণের ফলে পানির নিচে ভূমিধস হয়, যাতে সুনামি হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে কমপক্ষে ৪৩০ জন নিহত ও দেড় শতাধিক লোক নিখোঁজ হয়।
সুনামিতে আরেকটি বড় ঢেউ আসার আগেই মশারির ওপর থেকে আলমারিটি সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হন করিম। সেদিনের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন বাইরে গেলাম, পানি তখন কোমর সমান। আমি সময়মতো সেখানে যেতে না পারলে কিংবা এত কাছে না থাকলে এতক্ষণে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা মারা যেত।’
