২০১৯ সাল ক্রিকেটের জন্য আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বকাপের বছর। ৩০ মে থেকে ৬ জুলাই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বসবে ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর। টানা ষষ্ঠবারের মতো যে আসরে খেলবে বাংলাদেশ। এবারের আসরে অন্তত সেমি ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ এমনটাই প্রত্যাশা সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলটের। তবে বিশ্বকাপে একজন জেনুইন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন পাইলট।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্বকাপে সেরা আটে খেলে টাইগাররা। সেই আসর থেকেই বলতে গেলে বদলে যাওয়া দল বাংলাদেশ। এরপরের সময়টাতে ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের অবস্থান আরো দৃঢ় করেছে মাশরাফী-সাকিবরা। এবারের বিশ্বকাপে ট্রফিতে চোখ রেখে এগোবে বাংলাদেশ, স্বয়ং টাইগারদেরই বলতে শোনা যাচ্ছে এমন।

তবে বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বেশ কিছু সময় বাকি। এই সময়টাতে নজর দেওয়ার গুরুত্ব সাবেক অধিনায়ক পাইলটের। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বকাপে ভালো ফল রাতারাতির বিষয় নয় যে চাইলেই পেয়ে যাব। আমার কাছে মনে এটা একটা প্রসেসিং। যেভাবে আপনি নার্সিং করবেন সেভাবেই ফল পাবেন। ২০১৮ সালটা আমাদের খুব ভালো গেছে। আমার মনে হয় এটা যদি ধরে রাখতে পারি তাহলে বিশ্বকাপে আমরা ভালো খেলব।’’
এশিয়ার এক সময়ের সেরা উইকেটরক্ষক পাইলট মনে করেন সেরা চারে খেলার ভালো সম্ভাবনা আছে টাইগারদের। তার মতে, ‘‘বাংলাদেশের বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে সেরা চারে যাওয়ার। সেরা চারে যেতে পারলে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে।’’
‘‘টাইগারদের এটাই লক্ষ্য উচিত যে সেরা চারে কীভাবে যেতে পারি। এরপর নক আউট পর্বের খেলা। যে জিতবে সে উপরে চলে যাবে।’’- যোগ করেন পাইলট।

তবে এবারের বিশ্বকাপের ফরম্যাট ভিন্ন। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল একবার করে মুখোমুখি হবে সবার। পাইলটের মতে, ‘‘বিশ্বকাপ এমন একটা জায়গা যেখানে প্রথমে লিগ এরপর নকআউট পর্ব। এই লিগ পর্যায়ে অনেক ম্যাচ হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করাটা গুরুত্বপূর্ণ।’’
‘‘যে দশ দল খেলবে তারা সবাই ভালো দল। ওই ধরনের কন্ডিশনে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দল খুবই ভালো। যদিও অস্ট্রেলিয়া দল খুব ভালো পারফর্ম করছে না। তবে সময় আছে অস্ট্রেলিয়া দলের কাম ব্যাক করার মতো।’’
ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে খেলা বলে একটা জায়গায় শঙ্কা আছে পাইলটের। সেটা পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাব, ‘‘বাংলাদেশ দলের যে কম্বিনেশন আছে এটা খুবই দারুণ। বাংলাদেশে স্পিনিং অলরাউন্ডার অনেক। সাকিব, মাহমুদউল্লাহর মতো তারকা আছে। মিরাজও ব্যাটিংয়ে অবদান রাখতে পারে। তবে বাংলাদেশর জন্য সেটা অনেক বেশি কার্যকর বলতে পারেন। কারণ বাংলাদেশে স্পিন ট্র্যাক হয়। ইংল্যান্ডে যখন খেলবে পেস অলরাউন্ডার নিয়ে খেলতে হবে। এটার একটু ঘাটতি আছে।’’

পাইলট তাই বিশ্বকাপের আগে এই জায়গাটায় নজর দিতে বলছেন, ‘‘এখনো পেস বোলিং অলরাউন্ডাররা কিন্তু পরিণত না। সাইফউদ্দিন, আরিফুল হক আছে। কিন্তু আমাদের অপশন খুব কম। রুবেল, তাসকিন, শফিউল শুধু বল করে। এই জায়গাটাই স্পিন অলরাউন্ডারের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে পেস বোলিং অলরাউন্ডারে।’’
‘‘এই একটা ঘাটতি আছে আমাদের। তবে আরিফুল-সাইফউদ্দিন যদি ভালো পারফর্ম করে তবে টিমটা আরো শক্তিশালী হয়ে যাবে। আমি আশাবাদী। বাংলাদেশ এখন যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ২ জুন ওভালে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। এরপর ৫ জুন নিউজিল্যান্ড, ৮ জুন ইংল্যান্ড, ১১ জুন শ্রীলঙ্কা, ১৭ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০ জুন অস্ট্রেলিয়া, ২৪ জুন আফগানিস্তান, ২ জুলাই ভারত ও ৫ জুলাই পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ টাইগারদের।
