লীগ নেতার জানাজা পড়তে এসে আসামিদের কার্যালয় ভাঙচুর

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০৫:১৮ পিএম

বগুড়ার কাহালুতে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত আওয়ামী লীগ নেতার জানাজার আগে আসামিদের আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত একটি সমিতি কার্যালয় ও দুজনের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল হুদা দোয়েলের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কাহালু উপজেলার বাগইল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী 'বন্ধু সমবায় সমিতি'র কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া মামলার পলাতক আসামি আমজাদ হোসেন ও মাহমুদ আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এলাকাবাসী।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন চলাকালে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় যুবলীগ নেতা আজিজুল হক নিহত ও পাইকড় ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি সদস্য নাজমুল হুদা দোয়েল আহত হন। আহত দোয়েল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে মারা যান। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার রাতে দোয়েলের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। জানাজায় অংশ নিতে শুক্রবার সকাল থেকে গ্রামের মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মী নিহত দোয়েলের বাড়িতে সমবেত হন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাগইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিহতের জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীরা আসামিদের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত বাগইল গ্রামের 'বন্ধু সমবায় সমিতি'র কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা সমিতির আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর সেসব বাইরে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় মামলার পলাতক আসামি আমজাদ হোসেন ও মাহমুদ আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে জানাজা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবীর বলেন, ‘শুক্রবার সকাল থেকেই সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। জানাজার আগে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ লোকজন স্থানীয় এক সমিতির কিছু আসবাবপত্রে আগুন দিলেও তা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ নিভিয়ে ফেলে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত