শবরীমালায় তোপের মুখে পুরোহিত

ঋতুমতী নারী প্রবেশ করায় মন্দির ‘শুদ্ধকরণ'!

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০৬:৩৩ পিএম

কেরালার শবরীমালায় ঋতুমতী নারী প্রবেশের পর মন্দির ‘শুদ্ধিকরণে’ ক্ষুব্ধ হয়েছেন রাজ্যের এক মন্ত্রী। দীর্ঘদিনের সংস্কার ভেঙে গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো কোনো ঋতুমতী নারী প্রাচীন এ মন্দিরে প্রবেশ করে।

শনিবার এক প্রতিবেদনে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়,  বুধবার কনকদুর্গা (৪৪) এবং বিন্দু (৪২) নামে এ দুই নারী বের হয়ে যাওয়ার পর দরজা বন্ধ করে মন্দির 'শুদ্ধিকরণ' প্রার্থনা করেন পুরোহিত কান্দারু রাজিবারু। 

ঋতুমতী হওয়ায় পঞ্চাশের কম বয়সী নারীদের এ মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হতো না। ফলে দেবতা আয়াপ্পার সামনে তাদের আসার কোনো সুযোগ ছিল না। ঋতুমতী নারীদের এখনো অপবিত্র হিসেবে দেখা হয় স্থানীয় হিন্দু সমাজে।

কেরালার জনকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী এবং সিপিআইএম নেতা জি সুধাকরণ বলেন, ‘একজন বোনকে (নারী) অপবিত্র মনে করা মানুষের চরিত্র হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘পুরোহিত একজন সাম্প্রদায়িক শয়তান। সে প্রকৃত ব্রাহ্মণ না। এ আচরণ করে তো সে সন্ত্রাসী হয়ে উঠবে।’

সুধাকরণ আরও বলেন, ‘নারীর প্রতি এ ধরনের মনোভাবই বোঝা যায় দেবতা আয়াপ্পার প্রতি তার কোনো ধরনের প্রেম, সম্মান এবং আনুগত্য নাই।’  

এদিকে মন্দিরে এ দুই নারীর প্রবেশের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠনগুলো। সেইসঙ্গে গোটা রাজ্যে বিজেপি ও সিপিএমের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার বার ঘণ্টার হরতাল পালন করে কট্টরপন্থী হিন্দুরা। সিপিএমের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায় এক বিজেপি কর্মীও।

প্রসঙ্গত, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে নারীরা শবরীমালায় প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরোধিতা করে মন্দিরে তাদের প্রবেশের বাধা হয়ে দাঁড়ায় উন্মত্ত জনতা ও স্থানীয় ধর্মীয় গোষ্ঠী।

শেষপর্যন্ত এ বছরের শুরুতে এ দুই নারী মন্দিরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। এ দুই নারীর নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশের একটি ছোটদল তাদের সঙ্গে ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত