বাংলা একাডেমিতে শুরু হয়ে গেছে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা, ২০১৯-এর প্রস্তুতি। আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে মাসব্যাপী বইয়ের উৎসব। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলা উদ্বোধন করবেন। এবারের মেলায় স্টল বিন্যাসকে আরও নান্দনিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিগত বছরের মতোই বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশে অনুষ্ঠিত হবে মেলা।
এবারের মেলায় স্টল বিন্যাসের নকশা করছেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর। দেশ রূপান্তরকে নির্ঝর বলেন, ‘আমি খুবই অল্প সময় হলো যুক্ত হয়েছি। ফলে পরিকল্পনা করার যথেষ্ট সময় পাইনি। চেষ্টা করছি আন্তর্জাতিক মেলার আদলে পুরো গ্রন্থমেলাকে সাজাতে।’
এদিকে মেলায় অংশ নিতে ইচ্ছুক বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা এরই মধ্যে আবেদন করেছে। এবারই প্রথম অনলাইনে আবেদন করেছেন প্রকাশকরা। আগামী ২১ জানুয়ারি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, মেলাকে আরো দৃষ্টিনন্দন করার জন্য এরই মধ্যে একটি সৃজনশীল কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন দেশের বরেণ্য স্থপতি, নকশাকার, চিত্রশিল্পী, প্রকাশকসহ অনেকে।
বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, সাত শতাধিক প্রকাশনা সংস্থা আবেদন করেছে। এছাড়া প্রতিবারের মতোই এবারও থাকবে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর। থাকছে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, লাইব্রেরি, গণমাধ্যমের জন্য স্টল এবং একাধিক খাবারের দোকান। সংবাদকর্মীদের জন্য থাকবে মিডিয়া সেন্টার। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটের পাশে পার্কিং এবং মেলায় প্রবেশের একটি গেট রাখার ব্যাপারেও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে মেলায় প্রবেশের গেট থাকবে। মেলার নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরো জোরদার করতে মেলা প্রাঙ্গণ, টিএসসি, শামসুন্নাহার হল ও দোয়েল চত্বর পর্যন্ত থাকবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। এবারও মেলার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চনের মালিকানাধীন নিরাপদ ইভেন্টস এবং স্পন্সর করছে বিকাশ।
বাংলা একাডেমিতে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজীর জন্য এবারের মেলা নতুন চ্যালেঞ্জ। হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘বইমেলার সাথে আমাদের তো প্রাণের সম্পর্ক। তবে এবার মহাপরিচালক হিসেবে আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। সবাই মিলে এবারও অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাণের মেলা হয়ে উঠবে। লেখক-পাঠকের মিলনমেলা হবে।’
