যেখানে সেখানে অবাধে অনুমোদনহীন দোকানে গাজীপুরে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ ঝুঁকির মুখে পড়ছে সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া গ্যাসের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারে নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গাজীপুর মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় সেলুন, মুদি-ওষুধ, প্লাস্টিক সামগ্রী ও ফার্নিচারের দোকানসহ ফোন-ফ্যাক্সের সার্ভিস সেন্টারেও এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। জেলার অধিকাংশ দোকানির এলপি গ্যাস বিক্রির অনুমোদন নেই। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি নেই। অধিকাংশ দোকানে বিভিন্ন আকারের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য তালিকাও নেই। এসব মৌসুমি দোকানিদের এলপি গ্যাস ব্যবহারের সঠিক নিয়মও জানা নেই। গ্যাসের সিলিন্ডারের পাশাপাশি সস্তায় নিম্নমানের রেগুলেটর, গ্যাস সরবরাহ পাইপ ও অনুমোদনহীন বিভিন্ন কোম্পানির ঝুঁকিপূর্ণ চুলা বিক্রির হিড়িক পড়েছে গাজীপুরে। অনুমোদিত এলপি গ্যাস বিক্রেতা মো. শাহজাহান জানান, তারা সরকারি অনুমোদন নিয়েই এলপি গ্যাসের পাশাপাশি অক্সিজেন, আরগন গ্যাস, মেডিকেল অক্সিজেন, প্রোপেন গ্যাস ও অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম বিক্রি করছেন। তবে যেখানে সেখানে এলপি গ্যাস বিক্রির ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। এতে অনুমোদিত বিক্রেতাদের লোকসানের পাশাপাশি ক্রেতারাও প্রতারিত হচ্ছেন। গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী কয়েকজন বলছেন, এর আগে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমোদনহীন এলপি গ্যাস বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও এ ধরনের অভিযান অনেক দিন ধরে বন্ধ আছে। জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, অবাধে যেখানে সেখানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সিলিন্ডারগুলোতে মেয়াদ উল্লেখের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
এ ব্যাপারে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান লিটন বলেন, নিয়ম জেনে ও মেনে এলপি গ্যাস ব্যবহার করা উচিত। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এলপি গ্যাস ব্যবহারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে নীতিমালা থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে।
