চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আওতায় প্রায় চার লাখ গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের সুবিধা পেলেও এখনো ৫০ শতাংশ গ্রাহক এই সুবিধার বাইরে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রকল্প অনুমোদন হলেই চট্টগ্রামের প্রায় ৯ লাখ গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের সুবিধা পাবে। অপচয়, অনিয়ম ও হয়রানি ঠেকাতে গ্রাহকদের প্রি-প্রেইড মিটারের আওতায় আনে পিডিবি।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রথমবারের মতো ২০০৪ সালে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পিডিবির অধীনে ‘প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর ডিস্ট্রিবিউশন সাউদার্ন জোন’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রামে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু হয়। এর অধীনে পিডিবির চারটি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে (নগরের আগ্রাবাদ, স্টেডিয়াম, পাহাড়তলী ও খুলশী) প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পের অধীনে ১ লাখ ৩৯ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হয়। পরে নগরের পাথরঘাটা, কালুরঘাট, ষোলশহর, বাকলিয়া, মাদারবাড়ি, হালিশহর, নিউমুরিং, রামপুর এসব বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম শুরু করা হয়।
চট্টগ্রামে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের ১২টি বিক্রয় ও বিতরণ কার্যালয়ের মধ্যে ৯টির অধীনে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চার লাখের বেশি গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের সুবিধা দিতে সক্ষম হয়েছি। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ গ্রাহককে আমরা এখনো এই সুবিধা দিতে পারিনি। তবে তাদের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্প অনুমোদন হলে অবশিষ্ট গ্রাহকদেরও প্রি-পেইড মিটার সুবিধার আওতায় আনা হবে।’
নগরের বহদ্দারহাট এলাকার তৌহিদুল ইসলাম নামে এক গ্রাহক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাসায় প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের পর বিল দেওয়ার ঝামেলা থেকে অনেকটা মুক্তি পেয়েছি। তবে রিচার্জ করার সময় মাঝেমধ্যে নির্ধারিত ৪০ টাকার বেশি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রি-পেইড মিটার প্রকল্পের পরিচালক কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যুতের অপচয়, গ্রাহকদের হয়রানি ও অনিয়ম ঠেকাতে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের সুযোগ-সুবিধা দুটোই বেড়েছে। প্রথম দিকে এই প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জ করতে একটু ঝামেলা দেখা দিলেও এখন আর তেমন ঝামেলা নেই। পিডিবির নিজস্ব ভেন্ডিং স্টেশন ছাড়াও মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন ও রবির মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই প্রি-পেইড মিটার এখন রিচার্জ করতে পারছেন।’
