মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির সংঘর্ষে আতঙ্কে সীমান্তের রোহিঙ্গারা

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০৫:০৯ পিএম

রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যকার সংঘর্ষে এখনও অব্যাহত আছে। এমন পরিস্থিতিতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে সীমান্তের ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ আশ্রয় নেওয়া মুসলিম রোহিঙ্গারা।

২০১৭ সালে আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের হামলায় সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদের অধিকাংশেরই বাংলাদেশের ভেতরে শরণার্থী ক্যাম্পে জায়গা হলেও বেশ কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়।

আলজাজিরা জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে রাখাইনে ফিরে যেতে অনিচ্ছুকরাই মূলত সীমান্তের এসব জায়গায় থাকছে। কিন্তু বছরের শুরুতেই আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বিমুখী সংঘর্ষে এখন মৃত্যুঝুঁকির সম্মুখীন এসব রোহিঙ্গারা।

মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবসে (৪ জানুয়ারি) রাখাইনে পুলিশের চারটি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করে আরাকান আর্মি। স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে সংগঠনটি। দেশটির  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয় ডিসেম্বরের প্রথম দিকেও।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘মিয়ানমারের ভেতর সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তুমুল গোলাগুলি চলে।’

তিনি জানান, দুইপক্ষের মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষে তারা অনেক ভীত সন্ত্রস্ত। এমন পরিস্থিতিতে তারা উদ্বিগ্ন।

লিম্বো সীমান্তে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। বিপরীত দিকে বাংলাদেশ ভূমিতে প্রবেশ করতে মাঝখানে একটি নদী পার হতে হয় তাদের।

দিল মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘প্রতি রাতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ আমাদের কাছাকাছি পর্যন্ত চলে আসে। এর মধ্যে মিয়ানমার সীমান্ত বাহিনী আরো দশটি নতুন ফাঁড়ি বসিয়েছে। এটি আমাদের জন্য অনেক আতঙ্কজনক।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত