কুষ্টিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতার পর আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীন নারী-শিশু ও শিক্ষার্থীরা। তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে পুলিশের তৎপরতা থাকলেও আশ্বস্ত হতে পারছে না এলাকাবাসী।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের আলোচনায় কথাকাটাকাটির জেরে গত ৬ জানুয়ারি ভোরে আব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাটসহ সংঘটিত সহিংসতায় এক আতঙ্কিত জনপদ এই এলাকা। হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নেই স্বাভাবিক চিত্র। আব্দালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক দিলু জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া চরম শঙ্কার মধ্যে আছে নারী, শিশু ও ছাত্রীরা। সংঘর্ষের পর স্কুলে আসছে না শিক্ষার্থীরা।
কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী খুব শিগগির দলীয় নেতাকর্মীদের ডেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ওসি রতন শেখ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান এই সমস্যার সমাধানে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগে কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা তাৎক্ষণিক অঙ্গীকার করলেও আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন আব্দালপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আলী হায়দার স্বপন ও ইউনিয়ন লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে গত ৬ জানুয়ারি ভোরে আব্দালপুর নতুন বাজার গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন গোলাম মোস্তফার কয়েকশ সমর্থক দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয় ইউপি চেয়ারম্যান আলী হায়দারের সমর্থক ও ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানার বাবা মঈনুদ্দিন বিশ্বাস (৫৮) এবং আহত হয় ১০ জন। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
