পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচরা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র অবলম্বন একটিমাত্র বাঁশের সাঁকো। একটি সেতুর অভাবে চলাচলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এসব গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে নিমাইচড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম পার নিমাইচড়া। নিমাইচড়া বাজার থেকে পূর্বদিকে করতোয়া নদীর পাড় দিয়ে একটি সরু কাঁচা রাস্তা নেমে গেছে পার নিমাইচড়া গ্রামে। আঁকাবাঁকা পথের শেষে গ্রামের অন্য অংশে যেতে পার হতে হয় নড়বড়ে প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বাঁশের সাকো। পার নিমাইচড়া, মাঝগ্রাম, খন্দবাড়িয়া, শিবরামপুর ও শীতলাই গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য এই একমাত্র পথে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটলেও যেন দেখার কেউ নেই।
ভুক্তভোগীরা জানান, বছরের বেশিরভাগ সময় ওই এলাকায় করতোয়া নদীতে পানি থাকে। পারাপারে কোনো সেতু না থাকায় এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে। ঝুঁকিপূর্ণ পথে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরা। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় গ্রামবাসীকে। সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয় যখন কেউ মারা যান। মরদেহ দাফন করতে নদীতে নৌকায় পার করে নিয়ে যেতে হয় কবরস্থানে। পার নিমাইচড়া গ্রামের আফজাল হোসেন জানান, প্রতি বছর ভোটের সময় এলেই নেতারা রাস্তা ও সেতু তৈরির আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে তাদের দুর্ভোগের কথা কেউ মনে রাখেন না। বাচ্চারা স্কুলে যেতে বাঁওশর সাঁকো পারাপারের সময় খুব শঙ্কায় থাকতে হয়। একই গ্রামের সানেকা খাতুন জানান, সম্প্রতি সাঁকোয় নদী পার হতে গিয়ে পা ফসকে পড়ে যান তিনি। আচমকা পড়ে পায়ে আঘাত পেয়েছেন। গ্রামবাসীর দুর্দশা দূর করতে দ্রুত একটি সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি তার।
নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন বলেন, ‘সেতু না থাকায় ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নদী পার হচ্ছেন। ওই এলাকা দিয়ে অসংখ্য মানুষ চলাফেরা করে। এর আগে রাস্তায় কিছু মাটির কাজ করা হয়েছে। নদী পারপারের জন্য একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প দেওয়া হয়েছে।’
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে দুর্ভোগের বিষয়টি দেখেছি। সেখানে একটি বড় বাজেটের কাজ করতে হবে। যেটা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভব নয়।’ এলাকাবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার আশ্বাস দেন তিনি।
