তহবিল সংকটে পড়ে ফিলিস্তিনে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিওএফপি)। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ ফিলিস্তিনি নতুন সংকটের সম্মুখীন হলো।
ডব্লিওএফপি’র ফিলিস্তিনের ডিরেক্টর স্টিফেন কিয়েরনি রবিবার বলেন, ‘পশ্চিম তীরের প্রায় ২৭ হাজার মানুষ ১ জানুয়ারি থেকে জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা থেকে পাচ্ছে না। একইভাবে বন্ধ হয়ে গেছে গাজায় এক লাখ ৬৫ হাজার মানুষের সহায়তাও।’
আলজাজিরা জানায়, গত চার বছর ধরে ধীরে ধীরে তহবিল সংগ্রহে ভাটা পড়ায় ফিলিস্তিনে এ সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে এই কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ায়।
২০১৮ সালে গাজার আড়াই লাখ ও পশ্চিম তীর এক লাখ ১০ হাজার মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয় এ কর্মসূচি।
পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলের হেবরনের নিকটস্থ এক গ্রামের বাসিন্দা মাহা আল-নাওয়াজাহ জানান, অর্থের অভাবে তিনি প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারছেন না। ডিসেম্বর থেকে তার সহায়তা কার্ড নবায়ন করা হয়নি।
৫২ বছর বয়সী এ নারী জানান, ডব্লিওএফপি'র কার্ড দিয়ে তিনি ১২ সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ কিনতেন।
পশ্চিম তীরে বেকারত্ব সংকট এখন চরমে। এখানকার ১৮ শতাংশ মানুষের কোনো ধরনের কাজ নেই। ভাল উপার্জনের জন্য এখানকার ফিলিস্তিনিদের যেতে হয় ইসরায়েলে। কিন্তু ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধের কারণে সেখানে প্রবেশ করতে পারেন না তারা।
এ পঞ্চাশোর্ধ নারী বলেন, ‘আমার স্বামীকে মাঝেমধ্যে কাজের জন্য ইসরায়েলে ঢুকতে দেওয়া হলেও আমার ছেলেদের দেওয়া হয় না।’
কিয়েরনি বলেন, ‘১৯ ডিসেম্বরে আমরা তহবিল সংগ্রহের জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সুইজারল্যান্ড থেকে কিছু অর্থ পাওয়া গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা একেবারেই কম।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য ৫৭ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এই অর্থাভাব কাটাতে আমরা নতুন সহায়তাকারী খুঁজছি।’
আলজাজিরা জানায়, গাজার ৮০ শতাংশ মানুষ আন্তর্জাতিক অর্থ সহায়তার উপর নির্ভরশীল। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েল ও মিশরের অবরোধের মুখে অচল হয়ে আছে ফিলিস্তিনের এ অঞ্চলটি।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফিলিস্তিনে অর্থ সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেন। দেশটি ফিলিস্তিনে প্রায় ৫০০ মিলিয়নের মতো অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছিল এতদিন।
