গার্মেন্ট শিল্প রক্ষায় সব পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে। আন্দোলন দমাতে হত্যা-গ্রেপ্তারে কোনো সমাধান আসবে না।
মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস গার্মেন্ট শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সরকার।
রিজভী অভিযোগ করেন, মালিক-শ্রমিকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি গার্মেন্ট শিল্প এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বিদেশি কাউকে সুবিধা দিতে এর পেছনে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করছে বলেই দেশের জনগণ বিশ্বাস করে।
তিনি বলেন, ‘এখন ভুয়া ভোটের সরকার গার্মেন্ট শিল্পকে নিয়ে বিপজ্জনক খেলায় মেতেছে। এই শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার যে পাঁয়তারা করছে তার পরিণাম শুভ হবে না। যারা অর্থনীতির চালিকা শক্তি, তাদের ধ্বংস করে অর্থনীতির বিকাশ সম্ভব নয়।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলন দমাতে হত্যা, লাঠিচার্জে ক্ষতবিক্ষত করা ও ব্যাপক গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে কোনো সমাধান আসবে না। অবিলম্বে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস এই গার্মেন্ট শিল্পকে রক্ষা করতে সব পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু অলীক তৃতীয় পক্ষ বা অন্যের হাত আছে- এসব বলে সংকটের সমাধান হবে না।’
সরকার চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, গত কয়েকদিনেও চালের দাম ফের বেড়েছে কয়েক দফায়। প্রতি কেজি চালের দাম গত এক সপ্তাহে বেড়েছে ৬-৮ টাকা। সরকারদলীয় সিন্ডিকেটের লোকেরাই কারসাজি করে এই দাম বৃদ্ধি করেছে।
তিনি বলেন ‘১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ানোর কথা বলে একসময় ভোট চাইলেও বর্তমানে মোটা চালের দামও ৫০ টাকার নীচে নয়। অন্যান্য চাল ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’
এসময় রিজভী আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় বন্দী করার মূল কারণই ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কারণ বেগম জিয়াকে বাইরে রেখে ভোট ডাকাতির এরকম নির্বাচন সম্ভব ছিল না।
তিনি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মহা-ভোটডাকাতির পর গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে শিকল পরানো হয়েছে। গণতন্ত্র ও জনগণের সঙ্গে বরাবরই প্রতারণা করার দল আওয়ামী লীগ। যারা এখন নিজেদেরকে সরকার বলে দাবি করছে, তারা অবৈধ ও ভোট সন্ত্রাসী।’
