শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান প্রতীকের আত্মহত্যার ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড মিনারেল সায়েন্স ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনকে প্রধান এবং গণিত বিভাগের প্রফেসর আনোয়ারুল ইসলাম ও সহকারী প্রক্টর সামিউল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এদিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে আজ প্রতীকের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তাইফুর রহমান প্রতীক সিলেট নগরীর কাজলশাহ এলাকার একটি মেসে থেকে পড়ালেখা করতেন। গত সোমবার বিকেলে ওই বাসার একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকা প্রতীকের লাশ উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা প্রতীক আত্মহত্যা করেছেন। তার পরিবার থেকে এ ঘটনার জন্য শাবিপ্রবির শিক্ষকদের দায়ী করা হয়েছে।
প্রতীকের মৃত্যুর খবর জানার পরই তার বড় বোন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডার বিভাগের শিক্ষক শান্তা তাওহিদা তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এতে তিনি প্রতীকের মৃত্যুর জন্য তার (প্রতীকের) বিভাগের শিক্ষকদের দায়ী করেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিল। সে শিক্ষক হতে চেয়েছিল। কিন্তু বিভাগের শিক্ষকরা তাকে মাস্টার্সে সুপারভাইজার করেননি। বিভিন্ন কোর্সে নম্বর কম দিয়েছেন। তারা (শিক্ষকরা) আমার ভাইকে তিলে তিলে হত্যা করেছেন।’
শান্তা তাওহিদার এই বক্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দাবি ওঠে প্রতীকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের। এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এ প্রসঙ্গে শাবিপ্রবির জিইবি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর শামসুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতীককে সুপারভাইজার না দেওয়া বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি অল্পদিন হলো বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে এসেছি। তবে প্রতীকের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করা হবে।’
প্রতীকের বন্ধু ফাহমিদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, প্রতীক কিছুদিন ধরে হতাশায় ভুগছিল। বন্ধুদের সঙ্গেও সে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছিল।
