তাইওয়ানকে নিজেদের আয়ত্তে রাখতে সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে পরাশক্তিধর দেশ চীন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা এজেন্সির করা এক রিপোর্টে বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
গত মঙ্গলবারের প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, ‘তাইওয়ানকে ঐকীভূত করার উদ্দেশে চীন সামরিক শক্তির আধুনিকায়ন করেছে। তাইওয়ান ইস্যুতে বহিঃশক্তি হস্তক্ষেপ করতে পারে এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখে বেইজিংয়ের পিপলস লিবারেশন আর্মি তাইওয়ানে প্রবেশ করতে পারে।’ রিপোর্ট প্রকাশের দুদিন আগেই চীনের সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অপর রিপোর্টে বলা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে বহিঃশক্তির কোনো হস্তক্ষেপ বেইজিং সহ্য করবে না।’ চীনের কেন্দ্রীয় মিলিটারি কমিশনের সদস্য জেনারেল লি ঝৌচেং এ বিষয়ে বলেন, ‘কেউ তাইওয়ানকে চীন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে চীনা সেনাবাহিনী তাদের জাতীয় পুনরেকত্রীকরণ প্রশ্নে যা করার তাই করবে।’
গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়, ২০০২ সালের পর চীন সেনাবাহিনীর পেছনে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা বিগত সময়ের তুলনায় তিনগুণ বেশি। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা এজেন্সির প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট অ্যাসলে বলেন, চীনের সেনাবাহিনী ভিন্ন খাত থেকে অর্থ এনে সেনাবাহিনীর উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে। চীনের প্রযুক্তি বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রবেশ করলেও সামরিক প্রযুক্তি খাতে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। গত কয়েক বছর ধরেই দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও সমুদ্রে দেশটির সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। চীন সম্প্রতি যে মিসাইল তৈরি করেছে তা সরাসরি তাইওয়ানে আঘাত হানতে সক্ষম।