পোশাকেই নিরাপত্তা, মালয়েশিয়ায় স্কুলে যৌনশিক্ষা নিয়ে বিতর্ক

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০৩ পিএম

যৌন নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেতে মেয়েদের শরীর ডেকে রাখা উচিত। স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ছবিসহ এমন একটি অধ্যায় যুক্ত করে মালয়েশিয়া। কিন্তু শিক্ষার্থীদের যৌনশিক্ষায় এমন দুর্বল ও অযৌক্তিক পাঠসূচির ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার বিবিসি জানায়, পাঠ্যবইয়ে এমন অধ্যায় যুক্ত করা উচিত হয়নি বলে স্বীকার করেছে মালয়েশিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

দেশটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয় বছর বয়সী মেয়েদের এ বই বিতরণ করা হয়। বইটিতে গ্রাফিক ডিজাইন সহ একটি অধ্যায়ে দেখা যায়, পোষাকের কারণে কীভাবে একটি মেয়ে যৌন নিপীড়ন থেকে রক্ষা পাবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি প্রকাশ পেলে এর সমালোচনা করে মানুষ। অধিকাংশদের মতে, এমন শিক্ষায় যৌন নিপীড়নের জন্য মেয়েদেরকেই দোষ দেওয়া হচ্ছে। শরীর ঢেকে না রাখার কারণেই মেয়েরা বাইরে নিপীড়নের শিকার হয়, শিশুদেরকে এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে স্কুলে।  

ছবিসহকারে অধ্যায়টিতে আমিরা নামের এক শিশু চরিত্র দিয়ে দেখানো হয়, কীভাবে সঠিক পোষাক পরে আব্রু রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় তার কারণে তার পরিবার লজ্জিত হবে, বন্ধুরা তাকে খারাপ বলবে। এভাবে পোষাক দিয়ে শরীর ঢেকে মেয়েদের ‘যৌন নিরাপত্তার’ প্রতি উৎসাহী করে তোলার শিক্ষা দেওয়া হয় এতে। 

সমালোচকদের মতে, শিশুদেরকে আরো উন্নত যৌনশিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।

নারী অধিকার বিষয়ক সংস্থা উইম্যান’স এইড অর্গানাইজেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মীরা সামন্থর বলেন, ‘আমরা হতাশ। এমন শিক্ষা নয় বছর বয়সী মেয়েদের যৌনপণ্য করে তুলছে, তাদের শরীর সম্পর্কে লজ্জিত হতে শেখাচ্ছে, এবং অপরাধীদের বদলে মেয়েদেরই যৌন নির্যাতন নিয়ে দায়ী করে তুলছে।’

পাঠবইয়ের এমন অধ্যায় নিয়ে বিতর্ক ও অভিযোগের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বইয়ের বিতর্কিত অধ্যায়টি স্টিকার ব্যবহার করে ঢেকে দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত