শহীদ আফ্রিদির বোলিং তোপ এড়িয়ে জুনায়েদ সিদ্দিক লড়লেন একাই। বিপিএলের চলতি আসরে নিজের প্রথম অর্ধশতকে খুলনা টাইটান্সকে এনে দিলেন লড়াইয়ের সংগ্রহ। জবাবে ফর্মে ফেরা তামিম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে গড়ে দিলেন জয়ের ভিত। শেষ দিকে দুলতে থাকা ম্যাচের হল রোমাঞ্চকর নিষ্পত্তি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার কুমিল্লা শেষ ওভারের লড়াইয়ে দুই বল হাতে রেখে তিন উইকেটের জয় পেয়েছে। আগের দুই ম্যাচে শূন্য রানে ফেরা তামিম ইকবাল উদ্বোধনীতে এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে ১১৫ রানের জুটি গড়ে নিজে থামেন ৭৩ রানে। ৪২ বলের ইনিংস ১২টি চার, একটি ছয় দিয়ে সাজানো।
ম্যাচসেরা তামিম সাজঘরে ফিরতেই ১৮২ রানের লক্ষ্য ধীরে ধীরে কঠিন হতে থাকে। বল হাতে তিন উইকেট নেয়া আফ্রিদি মাঝখানে আশা জাগিয়ে ফিরে যান। শেষ দুই ওভারে ১৯ রান দরকার পড়ে তাদের। ১৯তম ওভারে আফ্রিদি (১২), জিয়াউর রহমান (০) ফেরার পর থিসারা পেরেরা ৭ বলে ১৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন।
এই জয়ের পর কুমিল্লা আট পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। সাতদলের আসরে খুলনা দুই পয়েন্ট নিয়ে একদম তলানিতে।
টস জিতে কুমিল্লা এদিন খুলনাকে আগে ব্যাট করতে পাঠায়। সাত উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান তোলে দলটি। ইনিংস শুরুর ওভারে চতুর্থ বলে জহুরুল ইসলামকে ফেরান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। এরপর আল-আমিন, রিয়াদকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন আফ্রিদি। চাপে পড়ে যায় খুলনা। দাঁড়িয়ে যান জুনায়েদ। আফ্রিদিকে সামলে খেলে তুলে নেন অর্ধশতক। শেষ পর্যন্ত ৪১ বল খেলে রানআউট হওয়ার আগে ৭০ করে যান। চারটি চার এবং চারটি ছয় হাঁকান ২০১২ সালে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এই ব্যাটসম্যান।
তিনি ছাড়া আর কেউ সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। আবাহনী এবং ঢাকা মেট্রোর হয়ে খেলা আল-আমিন তিন নম্বরে নেমে ৩২ করে যাওয়ার পর মালান করেন ২৯।
আফ্রিদি ছাড়া ওয়াহাব রিয়াজও ভালো বল করেছেন। চার ওভারে ৩৪ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন তিনি। আফ্রিদি খরচ করেন ৩৫। অন্য উইকেটটি ২৯ রান দেয়া সাইফউদ্দিনের।
কুমিল্লার ১১৫ রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর ১৫৩ রানে পঞ্চম উইকেট চলে যায়। এই সময় খানিকটা চাপ কমান ইমরুল কায়েস। ফেরার আগে ১১ বলে তিন ছক্কা ও এক চারে খেলে যান ২৮ রানের কার্যকরী ইনিংস। তিনি ফেরার পর ১৭৪ রান পর্যন্ত যেতে বিদায় নেন আরও দুইজন। শেষ পর্যন্ত রক্ষা করেন পেরেরা। ৭ বলের ইনিংসে ১৮ রান করতে দুটি চার, একটি ছয় হাঁকান এই লঙ্কান।
জয় না পাওয়া খুলনার সফল বোলার জুনায়েদ খান। ৩২ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি। একটি করে উইকেট মালিঙ্গা এবং রিয়াদের।
