ঘুমন্ত অবস্থায় গৃহবধূসহ ২ জনকে পুড়িয়ে হত্যা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০৬:৩৫ পিএম

ভোলার লালমোহনে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় গৃহবধূ ও শিশুসহ ২ জনকে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দগ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও এক নারী।

শুক্রবার রাতে জেলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খারাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতরা হলেন সুরমা (২৫) ও তার বোনের মেয়ে খাদিজা (৮)। নিহত সুমরা বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের রফিকের স্ত্রী ও খাজিদা লালমোহনের চরভূতা ইউনিয়নের রফিজলের মেয়ে।

এদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন অংকুরা বেগম (৩৮) নামের আরেক নারী ।

স্থানীয় ও নিহতদের স্বজনরা জানান, নিহত সুরমার সঙ্গে বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের রফিকের ৬ মাস আগে বিয়ে হয়। এটা ছিল রফিকের তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর লালমোহনের কর্তার হাট এলাকায় ঘর ভাড়া করে স্বামী-স্ত্রী বসবাস শুরু করে। কিন্তু রফিক তেমন কাজ কর্ম করত না। তাই ঘর ভাড়া ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারত না। এ ছাড়া বিয়ের পর স্বামী রফিকের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। প্রায়ই তাদের ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত। এ নিয়ে বিচার সালিসও হয় কয়েক দফা।

তারা আরও জানান, গত ১০দিন আগে সুরমাকে রেখে তার স্বামী রফিক অন্যত্র চলে যায়। তারপর সুরমা আশ্রয় নেয় বড় বোন আংকুরা বেগমের বাড়িতে। শুক্রবার রাতে খাবার পর এক বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন  সুরমা ও তার বোন আংকুরা এবং আংকুরার মেয়ে খাদিজা । গভীর রাতে তাদের  মাটির ঘরের পেছন দিয়ে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। চৌকিতে ঘুমন্ত অবস্থায় লেপ তোষকে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় গৃহবধূ সুরমা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হয় বড় বোন আংকুরা ও তার মেয়ে খাদিজা ।

আগুনে আক্রান্তদের চিৎকারে এলাকাবাসী  তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের ভোলা থেকে বরিশাল মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে প্রেরণ করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২ টার দিকে খাদিজার মৃত্যু হয়।

লালমোহন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খাইরুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মো: মোকতার হোসেন বলেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগ নিহতের স্বামী রফিক এ আগুনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। সুরমার সাথে তার স্বামীর পারিবারিক কলহ ছিল বলে পরিবারের লোকজন জানায়। সে কারণেই সে ঘরে আগুন লাগিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের কয়েকটি টিম দুর্বৃত্তদের ধরতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত