বকেয়া পরিশোধ না করেই সাত মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয় জামালপুরের সরিষাবাড়ীর আলহাজ জুট মিল। এরপর বহুবার মিল চালু ও বকেয়া টাকা ফেরত পেতে কর্র্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও কাজ হয়নি শ্রমিকদের। দীর্ঘদিন বেকার থাকায় এখন পরিবার নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা।
সরিষাবাড়ী রেলওয়ে কলোনিতে থাকছেন আলহাজ জুট মিলের বেশ কয়েকজন শ্রমিক। কলোনিতে গিয়ে দেখা যায় বাড়ির উঠানে বসে শাকপাতা বাছছেন তন্বী রানী। স্বামী কৃষ্ণের সঙ্গে তিনিও আলহাজ জুট মিলে কাজ করতেন। মিল বন্ধের ফলে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বেকার। এখন দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। তন্বী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিল বন্ধের পর খুব কষ্ট কইরা আমাগো দিন যাইতাছে। কোনো বেলা খাবার জোটে তো কোনো বেলা জোটে না। এর মধ্যে নতুন বছরে স্কুলে ভর্তির সময় হইছে। কিন্তু টেকার অভাবে পোলারে এহনো স্কুলে ভর্তি করাবার পাই নাই। তাই পোলা কানতাছে।’ শুধু তন্বী রানী নন, একই অবস্থা মিলের স্থায়ী, বদলি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ৩ হাজার ৮৩ জন শ্রমিকের।
মিলের সিবিএ সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বকেয়া পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা যখন আন্দোলন করছিল তখন মিল কর্র্তৃপক্ষ বকেয়া পরিশোধ না করে হঠাৎ মিল বন্ধ ঘোষণা করে। এতে কারখানার ৩ সহস্রাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মিল চালু ও পাওনা পরিশোধে জন্য কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। মিল বন্ধের আগে শ্রমিকদের প্রায় ৩ কোটি টাকা বেতন-বোনাস বকেয়া ছিল বলে দাবি করেন তিনি। এসব বিষয়ে কথা বলতে মিল কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর জানান, মিলটি সরকারি ও বেসরকারি যৌথ মালিকানায় হলেও বেসরকারি মালিকই সেটি পরিচালনা করতেন। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন (বিজেএমসি) ও কারখানা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও মিল চালুর বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
১৯৬৭ সালে ৩৯ একর জায়গার ওপর স্থাপিত হয় আলহাজ জুট মিল। মিলে প্রতিদিন গড়ে ১৫ মেট্রিক টন পাটের তৈরি বস্তা, ব্যাগ ও কার্পেটের সুতা তৈরি হতো। প্রায় ৮০ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে গত বছরের ২১ জুলাই মিলটি বন্ধ করে দেয় কর্র্তৃপক্ষ।
