নরসিংদীতে নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ আসাদ আজও অজানা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৫০ এএম

আজ রবিবার শহীদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে স্বৈরশাসক আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রনেতা আসাদ। আসাদের পুরো নাম আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। মৃত্যুর পর গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। সেখানে তার নিকটাত্মীয়দের কেউ থাকেন না। ফলে তার কবরটি চরম অযতœ-অবহেলায় পড়ে আছে। এমনকি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের অভাবে নতুন প্রজন্ম ভুলতে বসেছে তাকে।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নিজ বাড়ির বকুলতলায় শহীদ আসাদের কবর। সমাধিতে শ্যাওলা জমেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিবপুরে আসাদের নামে দুটি স্কুল-কলেজ থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে নামটি পরিচিত। তবে তার মৃত্যুর ইতিহাস ও দিবস বেশির ভাগ মানুষের অজানা। এবারও শহীদ আসাদ দিবসে শিবপুরে কোনো আয়োজন নেই। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক শহীদ আসাদের নামে শিবপুর কলেজের নামকরণ করা হয় শিবপুর সরকারি শহীদ আসাদ কলেজ। সেই কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে শহীদ আসাদ সম্পর্কে জানতে চেয়ে হতাশ হতে হয়েছে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ১৯৬৯ সালের  গণআন্দোলনে শহীদ আসাদের ভূমিকা জানাতে পারেননি। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিনা বেগম বলেন, শিক্ষাবর্ষের প্রারম্ভিক ক্লাসে শহীদ আসাদকে নিয়ে আলোকপাত করা হয়। কিন্তু আগ্রহের অভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে আসাদের লড়াই, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ অজানা থেকে যাচ্ছে। আসাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ¯œাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) ঢাকা হল শাখার সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি স্বৈরাচারী আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি নিহত হন। এরপর থেকে দিনটি শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা. এ এম নূরুজ্জামান নুর বলেন, আসাদ বিপ্লবী নেতা ছিলেন। আসাদকে যেভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল তা হয়নি। ফলে আসাদ সম্পর্কে দেশের মানুষ অনেক কিছুই জানেন না। তিনি সরকারের কাছে শিবপুরের সরকারি শহীদ আসাদ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় ও নরসিংদীতে আসাদের পৈতৃক সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে শহীদ আসাদ কারিগরি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত