তপন দাস নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় স্ত্রী ও তার প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্ত্রী স্বেতা দাসের পরকীয়া এবং তার সঙ্গে বাদানুবাদের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ মনে করছে।
ভারতের ঝাড়খন্ডের জামশেদপুরের এ ঘটনায় শনিবার ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় হিন্দুস্তান টাইমস।
গত ১২ জানুয়ারি তপন নিখোঁজ হন। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে বারাবাঙ্কি এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
জামশেদপুরের সিনিয়র পুলিশ সুপার অনূপ বিরথারে বলেন, “ডিএসপি অনুদীপ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল দুদিনের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন করে। তপনের স্ত্রী স্বেতা, তার প্রেমিক সুমিত সিংহ এবং সুমিতের সহযোগী সনু লালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা তপনকে হত্যা এবং লাশ গুমের কথা স্বীকার করেছে।”
“জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করে, তারা তপনকে হত্যার পর লাশ রেফ্রিজারেটরে রাখে। পরে ১৩ জানুয়ারি রেফ্রিজারেটরসহ লাশটি বারাবাঙ্কি এলাকায় ফেলে দেয়’ যোগ করেন তিনি।
অভিযুক্তরা জানায়, ১২ জানুয়ারি তপন মাতাল অবস্থায় বাসায় ফিরে স্ত্রী স্বেতার সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ান। স্বেতা ফোন করে প্রেমিক সুমিতকে ফ্ল্যাটে ডাকেন। সুমিত তার সহযোগী সনুকে নিয়ে তপনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
তপনকে হত্যার পর লাশ প্রথমে রেফ্রিজারেটরে রাখা হয়। পরে লাশসহ রেফ্রিজারেটরটি অটোরিকশা করে বারাবাঙ্কিতে নিয়ে যায়। সেখানে ঘন ঝোপের মধ্যে লাশ ফেলা হয়। পরে অন্যত্র পরিত্যক্ত রেফ্রিজারেটরটিও ফেলে দেওয়া হয়।
ডিএসপি অনুদীপ সিং বলেন, তপন এবং স্বেতার আট বছর বয়সের এক কন্যা সন্তান আছে। তপনের মাদক সেবন নিয়ে প্রায়শই স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হতো।
এর আগে স্বেতা পুলিশকে জানায়, ১২ জানুয়ারি মাতাল অবস্থায় বাসায় আসার পর তপন দেড় লাখ টাকা নিয়ে চলে যান। তপন নিখোঁজ হয়েছে জানিয়ে থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেন স্ত্রী।
