সেঞ্চুরি করেছেন। এবারের বিপিএলে প্রথম। অথচ প্রেস কনফারেন্সে এসে বিনয়ে পরম নম্রতায় ইংলিশ লরি ইভান্স কি না বলছেন, এদিন একাদশে থাকার যোগ্যতাই তার ছিল না! সেই তার সেঞ্চুরিকে পুঁজি করেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মতো বড় দলকে কাল ঢাকার জমিনে নামিয়ে আনল রাজশাহী কিংস। বোলাররাও জ্বলে ওঠায় জয়টা শেষে দাপুটে।
ইভান্স আগের ম্যাচেই একাদশে ছিলেন না। পাঁচ ম্যাচে দুইটা শূন্য আর সাকল্যে ১৩ রানে তার ওপর কীভাবে ভরসা রাখে দল? কিন্তু রাজশাহীর ওপেনিংটা পরীক্ষাগার। সপ্তম ম্যাচে এসে পঞ্চম ওপেনিং জুটি। আবার সুযোগে ইভান্স পেছনে ফেলে দিলেন গেইল, ডি ভিলিয়ার্স, রুশো, ওয়ার্নার, স্মিথ, ইভিন লুইস, ফ্লেচারদের মতো বিদেশিদের; সঙ্গে বাংলাদেশের বড় সব নামকে। তারটি নিয়ে বিপিএলে সেঞ্চুরির সংখ্যা হলো ১৩। গেইল একাই পাঁচ সেঞ্চুরির মালিক। তাই নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই টুর্নামেন্টে ইভান্সের সেঞ্চুরি। এবং এই প্রথম বিপিএলে এমন কেউ সেঞ্চুরি করলেন যার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার কোনো অভিজ্ঞতা নেই!
সাত ম্যাচে চার জয়ে কুমিল্লাকে ধরে ফেলল রাজশাহী। একই বিন্দুতে অবস্থান দুই দলেরই। ইভান্সের সেঞ্চুরি, পরে মোস্তাফিজের দুর্ধর্ষ বোলিং আর রাব্বির ক্যারিয়ারসেরা ফিগারে রাজশাহী নিয়ে নিল তামিম ইকবালদের কাছে প্রথম দেখায় হারের প্রতিশোধও।
ঢাকায় আবার ফেরা বিপিএলে টস হেরে ব্যাট করতে নেমেই বিপদে রাজশাহী। ২৮ রানে নেই ৩ উইকেট। ওপেনার ইভান্স এরপর রায়ান টেন ডেস্কাটকে নিয়ে খুব সতর্ক। তাদের ১৪৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি শেষে চতুর্থ উইকেটে বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ইভান্স ৬২ বলে ৬ ছক্কা ও ৯টি চারে ১০৪ নট আউট। ডাচ টেন্ডো ৪১ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারে অপরাজিত ৫৯।
বিপদটা যখন সামলে ওঠা গেছে তখন আক্রমণ শুরু ইভান্সের। ৪০ বলে ফিফটি। ছক্কা মেরে মাইলস্টোনে। তখন তার ৪টি বাউন্ডারি ও ২টি ছক্কা। এরপর চড়াও হয়ে মারকাটারি ব্যাটিং উপহার দিলেন। পরের ফিফটি তাই মোটে ২১ বলে! ১০৮তম ম্যাচে এসে এমন দুর্ধর্ষ সেঞ্চুরির পরও উৎসব নেই ৩১ বছরের ব্যাটারের। বড় আলস্যে ড্রেসিংরুমের দিকে ব্যাট ওঠে।
কুমিল্লার ১১ নম্বর ব্যাটসম্যানের ঘরোয়া সেঞ্চুরির সংখ্যাও পাঁচ! ১৭৭ রানের টার্গেটে ছুটে রাজশাহীকে হুমকিতে ফেললেন তামিমরা। কিন্তু বল হাতেও এদিন দুরন্ত ডেস্কাট প্রথম চারের দুই উইকেট শিকার করেন। তামিম ইকবালকে (২৫) দিয়ে অবশ্য শুরু করেছিলেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। আফগান কাইস আহমেদ মার খেলেও এক ওভারে দুই উইকেট নিয়ে চাপ বাড়ান। শিকার ইমরুল কায়েস (১৫) ও ভয়ংকর থিসারা পেরেরা (০)।
৩৬ বলে ৬৭ লাগে। কুমিল্লার ৬ উইকেট নেই। ১২ রানে দাঁড়ানো লিয়াম ডসনের সঙ্গে যোগ দেন শহিদ আফ্রিদি। ম্যাচের চতুর্থ ওভারে মাত্র ১ রান দেওয়া মোস্তাফিজুর রহমান ফেরেন। এবং হারের সব সম্ভাবনা রুখে দেওয়ার মতো বোলিং তার। কাটার মাস্টারকে বুঝে সমঝে খেলে না বুঝতে পারার বেদনায় ওভারে ৪। পরের ওভারে আফ্রিদির শোধ তোলার চেষ্টায় ১৮ দিতে হয় কায়েসকে।
শেষে ২৪ বলে ৪৫ লাগে কুমিল্লার। এবারও কাটারের কাছে আফ্রিদি নাকাল। মোটে ৩ খরচ ফিজের। শেষ বলে ১ রান নিয়ে রাব্বির ওভারের শুরুতে ব্যাট চালালেন। বাউন্ডারি লাইনে দারুণ বিচার দক্ষতায় শেষ মুহূর্তে কিছুটা পেছনে ঝাঁপিয়ে ক্রিস জঙ্কার ক্যাচ নিয়েছেন। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে যথাক্রমে ডসন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে ফেরালেন রাব্বি। হ্যাটট্রিক না হলেও তার ৩-০-১০-৪ বোলিং ফিগার দুর্ধর্ষ। পরের ওভারে মোস্তাফিজ এসে শেষ বাধাটা উপড়ে ফেলেন। রাজশাহীকে আর পায় কে! ফিজের ৩.২-০-৮-১ এর বোলিং ফিগারটা ডেথ ওভারে তার শ্রেষ্ঠত্বের কথাও বলছে তখন মহা আনন্দে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী কিংস : ১৭৬/৩, ২০ ওভার (ইভান্স ১০৪*, ডেস্কাট ৫৯*, শাহরিয়ার নাফীস ৫, মার্শাল আইয়ুব ২, মিরাজ ০; ডসন ২/২০, মেহেদী হাসান ১/৪)।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ১৩৮/১০, ১৮.২ ওভার (এনামুল ২৬, তামিম ২৫, আফ্রিদি ১৯, ডসন ১৭, ইমরুল কায়েস ১৫, শামসুর রহমান ১৫, জিয়াউর ১২; রাব্বি ৪/১০, ডেস্কাট ২/১৫, কাইস আহমেদ ২/৪৬, মোস্তাফিজ ১/৮, আরাফাত সানি ১/২৮)।
ফল : রাজশাহী কিংস ৩৮ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : লরি ইভান্স।
