স্ত্রীকে খুন করে শিশুসন্তান নিয়ে পালিয়েছে স্বামী

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:২১ পিএম

কুমিল্লা মহানগরীর শাকতলায় স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে হত্যার পর শিশু সন্তান নিয়ে পালিয়েছে স্বামী মেহেদী হাসান। খবর পেয়ে সোমবার রাত ৯টায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আনুমানিক ১৫ বছর পূর্বে নোয়াখালী জেলার চাটখীল উপজেলার জায়েকবাজার এলাকার প্রবাসী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় লালমাই উপজেলার ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের মগের কলমিয়া গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে নাসিমা আক্তারের। তাদের সংসারে নাইমুর রহমান অনি নামে এক ছেলে রয়েছে। কিছুদিন পর প্রবাসে কারাদণ্ডিত স্বামীকে তালাক দিয়ে নাসিমা বিদেশ ফেরত দেবর শহীদ উল্যাহকে বিয়ে করেন।

এ সংসারেও নাজিমুর রহমান অমি নামে এক ছেলে রয়েছে। শহীদ উল্লাহ নাসিমা আক্তারের নামে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট ও কুমিল্লা শাকতলায় সাড়ে তিন শতক জমি কিনে একটি টিনসেট বাড়ি নির্মাণ করে দেন।

কিন্তু ৩ বছর আগে শহীদ উল্যাহকে তালাক দিয়ে বরুড়া বাজারস্থ মেহেদী ফ্যাশনের মালিক স্থানীয় আগানগর গ্রামের মেহেদী হাসানকে ৩০ লাখ টাকা মোহরনায় বিয়ে করেন নাসিমা। বিয়ের ২/৩ মাসের মাথায় তাদের দাম্পত্যেও কলহ দেখা দেয়।

একপর্যায়ে নাসিমার দায়েরকৃত মামলায় মেহেদী গ্রেপ্তার হন। এরপর দুই পরিবারের হস্তক্ষেপে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মেহেদীর জামিন হয়। শাকতলার বাড়িতে শুরু হয় তাদের নতুন দাম্পত্য। এ সংসারে সালমান জাহিদ ত্বকী নামে দেড় বছরের এক ছেলে আছে। অনি মায়ের বাসায় থেকে শাকতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। অমি নোয়াখালীর বাবার বাড়িতে থাকে। ত্বকী মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

সোমবার দুপুর ২টায় স্কুল থেকে ফিরে এসে অনি দেখতে পায় বাড়িতে তালা ঝুলছে। মা-বাবার মোবাইল বন্ধ। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর সন্ধ্যায় অনি বাড়ির দেয়াল টপকে খোলা জানালা দিয়ে আলমারির তালায় ঝোলানো গেটের চাবি নেয়।

এরপর গেটের তালা খোলে ভেতরে গিয়ে দেখে মায়ের মৃতদেহ কম্বলে মোড়ানো। ত্বকী ও মেহেদী হাসান নেই।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টায় কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন অর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর রাত ৯টায় ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আজিজুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।

নিহতের বাবা আলী হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা এসে দেখি বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কক্ষের বক্স খাটে নাসিমা আক্তারের লাশ কম্বল দিয়ে মোড়ানো। তার মাথা পূর্ব দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে ফিরানো। তার গলায় তার দিয়ে প্যাঁচানোর চিহ্ন রয়েছে। মেহেদীর ছোট ভাই তুপা ফোন করে বলেছেন ত্বকীকে কেউ একজন বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন অর রশিদ বলেন, নিহতের গলায় দাগ রয়েছে। হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত